জনগণের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার জন্য হরতাল ও অসৌজন্যমূলক আন্দোলনের মত কাজের সুযোগ যেন কোনও পক্ষ পায় সে ব্যাপারে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, যারা ৭১ ও ২০০৮ সালে মানুষের বিভ্রান্তির মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের অপচেষ্টা করেছিল, তারা এখনও ষড়যন্ত্রের জালবুননে লিপ্ত। তথাকথিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। দেশের ২০ কোটি মানুষের প্রতিটি হাতকে কাজে লাগিয়ে দেশকে গড়ে তুলতে হবে—অর্থাৎ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এভাবেই পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে যশোরের ঈদগাহ মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে তিনি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ এবং ‘কৃষি কার্ড’ এর মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, রপ্তানি বন্ধ হওয়া কলকারখানাগুলো আগামি দুই থেকে চার মাসের মধ্যে আবার চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নারী শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে স্নাতক পর্যায়ে অবৈতনিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে এবং মেধাবী ছাত্রীর জন্য উচ্চতর শিক্ষায় উপবৃত্তি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রন্ধনপ্রক্রিয়া সহজ করতে এবং নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সরকার ‘এলপিজি কার্ড’ বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে, দেশের মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড সহ এলপিজি কার্ডও প্রদানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী প্রদান এবং উপজেলা পর্যায়ে ২৫ বছরের মধ্যে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড সফল হলে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নত হবে বলে তিনি আস্থার সঙ্গে উল্লেখ করেন। সভায় উপস্থিত হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশের আলোকবর্তিকার মতো মানুষজন আছেন—সবাই একসঙ্গে দেশ গড়ার জন্য প্রস্তুত। তিনি যোগ করেন, বিগত ৫০ বছরে পৃথিবীর অনেক দেশ তাদের ভাগ্য উন্নয়ন করেছে। যেমন, ১৯৭১ সালে অনেক পিছিয়ে থাকা সিঙ্গাপুর আজ উন্নত দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে। আমাদেরও সামর্থ্য আছে, ইনশাআল্লাহ, আমরা এগিয়ে যেতে পারব।
এটাই প্রথম যশোরে তারেক রহমানের ফিরে আসার পর সফর। দীর্ঘ ১৯ বছর পর তিনি এই প্রথম জনসম্মুখে আসছেন। তাঁর উপস্থিতি ও বক্তব্যে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক স্বচ্ছন্দতা ও উৎসাহ দেখা গেছে। তিনি উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন, যা একদিকে পানি ও জমির সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে তিনি হরিনারবিলে পাঁচশ শয্যার যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন এবং দড়াটানায় যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরির ভবন উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, স্বতঃস্ফূর্তভাবে খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে উলশী খালের অবস্থা খারাপ ছিল। এই চার কিলোমিটার দীর্ঘ খাল পুনঃখননের ফলে প্রায় ১৮ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন, তার সঙ্গে তিনি জানান, প্রায় ১,৪০০ টন অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদিত হবে এবং ৭২ হাজার মানুষের জীবনমান বদলে যাবে। খননের পরে পাড়ে তিন হাজার গাছ রোপণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা নির্বাচনী সময় জাল অপপ্রচার করছে, তারা এখন বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দোসর বলে আখ্যা দেয়। যারা অনেক জোরে জোরে কথাবার্তা বলে, তারা আসলে দেশের শান্তি বিনষ্টের ষড়যন্ত্র করছে। বিএনপির নানা অপ্রচারে দেশের স্বাভাবিক জীবনব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে, তবে আমরা কেউ যেন শান্তি নষ্ট করতে না পারি, তার জন্য আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে দেন, ১৭৩ দিন হরতালের ঘটনা যেন আবার না ঘটে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। নেতাকর্মীদের অঙ্গীকারের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সম্মিলিতভাবে কাজ করে দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে। কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির ভ্রান্ত ধারণা বা ভয় দেখিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চললেও, আমাদের প্রতিশ্রুতি, ‘আসুন, কাজ করি, দেশ গড়ি, সবার আগে বাংলাদেশ’—এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। তিনি শেষ বক্তব্যে বলেন, বিগত ৫০ বছরে পৃথিবীর অনেক দেশ মানুষ উন্নত হয়েছে, যেমন, সাম্প্রতিক সময়ে সিঙ্গাপুরের উন্নয়ন চিত্র আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। আমাদেরও সেই পথ অনুসরণ করে উন্নত দেশের মর্যাদা অর্জন করতে হবে, ইনশাআল্লাহ।






