মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের অভিযানের তীব্রতায় লেবানন এবং গাজায় বড় ধরনের মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। ক্রমাগত বোমাবর্ষণ, গণ-উচ্ছেদ ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে লেবাননে মাত্র এক দেশে ১২ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষই তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছেন—যা জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এবং লেবাননের কৃষি মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। (রয়টার্স)
লেবাননের রাস্তা-ঘাট ও শহরগুলোতে হামলা ও সংঘর্ষ অব্যাহত থাকার ফলে সাধারণ মানুষের জন্য খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রমে অপ্রাপ্য হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের জীবনযাত্রা ও জীবিকায় অস্থিরতা বেড়েছে, আর পরিবারগুলো ঘরে খাবার ও ওষুধ জোগাতে কষ্টে পড়ে আছে। এখানকার একজন শোকে ভাঙা পিতা তার ছোট মেয়ে মিলা (৪ বছরের কম বয়স) এবং তার মাকে হারিয়ে অত্যন্ত ব্যথিত—রয়টার্স তাদের বিদায়ের দৃশ্য বর্ণনা করেছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্রতা বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার প্রেক্ষিতে দেশটি আরও বেপরোয়া আচরণ করছে—ফলস্বরূপ হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষও অব্যাহত রয়েছে, যা লেবাননের উত্তরাঞ্চলকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে। ইসরায়েলি সেনা নেতারা জানিয়েছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে তারা কোনো যুদ্ধবিরতি রক্ষা করছে না এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি সমাধানে তাদের অভিযান চলবে।
অবরুদ্ধ গাজাতেও ত্রাণ সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সীমান্ত পুরোপুরি ত্রাণবাহী ট্রাক চলাচলের জন্য খোলা না থাকায় খাদ্য ও চিকিৎসা সরবরাহ অনিয়মিত ও অপর্যাপ্ত। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, সংবাদে সীমান্ত খোলা দেখানো হলেও বাস্তবে মাত্র কয়েকটি ট্রাকই পারাপার হচ্ছে—একটিতে সীমান্ত দিয়ে মাসিক ত্রাণের মাত্র কয়েকটি পার্সেলই আসছে, যা পুরো শরণার্থী শিবিরের চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট নয়।
আন্তর্জাতিক রেডক্রস সংগঠন জানিয়েছে, গাজায় ত্রাণ সরবরাহ মন্দার ফলে শরণার্থী শিবিরের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও জীবনযাত্রার মান দ্রুত অবনতি ঘটবে। পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসা না পেলে শিশু ও বার্ধক্যপ্রাপ্তদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
এদিকে ইসরায়েল সম্প্রতি গাজা উপত্যকার একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যাতে অধিক বিস্তৃত এলাকা দখল দাবি করা হয়েছে এবং হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের অবস্থান চিহ্নিত করে কিছু অঞ্চল নিষিদ্ধ এলাকা হিসেবে কমলা রেখায় চিহ্নিত করা হয়েছে। এই মানচিত্রটি প্রায় এক মাস আগে গোপনে তৈরি ও প্রকাশ করা হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। স্থানীয়দের উদ্বেগ, যে কোনো সময় এই সীমারেখা পরিবর্তন করা হতে পারে এবং তাতে বাস্তুচ্যুতদের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনগুলোতে উদ্বেগ করা হয়েছে যে, যদি দ্রুত ও ব্যাপক পদ্ধতিতে ত্রাণ ও চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া না হয়, তাহলে লেবানন ও গাজার মানবিক পরিস্থিতি কেবল খারাপই হবে—আর এতে অনাহার, স্বাস্থ্যসংকট ও বিস্ময়কর উদ্বাস্তু পরিস্থিতি গভীরতর হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবিক সংস্থাগুলোকে এখনও শক্তিশালীভাবে এগিয়ে আসার প্রয়োজন রয়েছে।






