দুই বছর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো গুঞ্জনকে চিরতরে শেষ করে অবশেষে বড় পর্দায় দেখা যাবে চিত্রনায়িকা মৌসুমী অভিনীত চলচ্চিত্র ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’। মূলত ওয়েব সিরিজ হিসেবে নকশা করা ছিল এই প্রকল্পটি, কিন্তু শেষমেষ নির্মাতা ও অভিনেতা হাসান জাহাঙ্গীর সেটিকে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা হিসেবে উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেন। নির্মাতা জানিয়েছেন, ১৫ মে একই সঙ্গে দেশি ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাগৃহে প্রচার শুরু হবে এই সাসপেন্স থ্রিলারটির। ফলে দীর্ঘ দুই বছর পর দর্শকরা আবারো বড় পর্দায় মৌসুমীকে দেখতে পাবেন।
সিনেমাটির গল্পের কেন্দ্রবিন্দু একজন প্রবাসী বাংলাদেশি নারী (চিত্রনায়িকা মৌসুমীর ভূমিকায়) — উন্নত জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তিনি এক অভিবাসীর সঙ্গে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ বা চুক্তিভিত্তিক বিয়েতে জড়ান। বিদেশে গিয়ে যে অচেনা ও কড়া বাস্তবতার সম্মুখীন হতে হয়, সেখানে পরিবার থেকে মানসিকভাবে দূরে সরে পড়ার অনুভূতিগুলো নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে ছবিটিতে। প্রবাসী জীবনের টানাপোড়েন, এক নারীর জীবনসংগ্রাম ও মর্যাদা রক্ষার লড়াইকে গল্পে শক্তভাবে আবদ্ধ করা হয়েছে।
হাসান জাহাঙ্গীর শুধু অভিনয়ই করেননি, তিনি ছবিটি প্রযোজনা ও পরিচালনাও করেছেন। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নানা লোকেশনে শুটিং শেষ করা হয়েছে এবং মার্চে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র নেওয়া হয়। নির্মাতা জানিয়েছেন, ক্যানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় শহরগুলোতেও মুক্তির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে; আন্তর্জাতিক দর্শকদের কথা মাথায় রেখে ছবির নির্মাণশৈলী ও উপস্থাপনায় আধুনিকতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।
নির্মাণকালীন ভুক্তভোগী ও দর্শক উভয়কেই কেন্দ্র করে সিনেমাটি মূলত নারী মর্যাদা, শেকড় সন্ধান ও সামাজিক বাস্তবতার কথাই বলে। গল্পে তুলে ধরা হয়েছে কেন কখনোই বিদেশে গিয়ে নিজের মানুষগুলো দূরত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এবং কীভাবে ভুল বোঝাবুঝি পরিবারের বিচ্ছিন্নতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়—এসব নির্মম বাস্তবতা অনুভবযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। নির্মাতার প্রত্যাশা, সততা ও ধৈর্য্যের মাধ্যমে একজন নারী কীভাবে প্রতিকূলতাকে জয় করে, সেটাই দর্শকের কাছে প্রধান আকর্ষণ হবে।
ছবির মুক্তি উপলক্ষে হাসান জাহাঙ্গীর অহেতুক ট্রলিং ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, মুক্তির সময় অঘটন এড়াতে ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাইবার সুরক্ষা ইউনিটে আবেদন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ‘সোনার চর’ চলচ্চিত্রের পর এটি মৌসুমীর সর্বাধিক আলোচিত প্রজেক্ট হিসেবে গণ্য হচ্ছে। নির্মাতা ও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, অপ্রাসঙ্গিক প্রোপাগান্ডা কাটিয়ে এটি সৎ ও হৃদ্যতার সঙ্গে দর্শকদের মন জয় করবে।






