বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী পশ্চিম বরঙ্গের সিনেমায় নিজের অবস্থান আরও মজবুত করছেন। ব্রাত্য বসুর ‘শেকড়’ ছবির পর এবার তিনি খ্যাতনামা পরিচালক সুমন মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় নির্মিত ‘আজাদি’ ছবির কাজ শেষ করেছেন। ছবিতে চঞ্চলের বিপরীতে প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধেছেন কলকাতার উদীয়মান অভিনেত্রী পৌলমী দাস। প্রযোজনা সূত্রে জানা গেছে, গত মার্চেই ছবিটির দৃশ্যধারণ সফলভাবে শেষ হয়েছে।
‘আজাদি’ মূলত ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পটভূমিতে নির্মিত। সিনেমার গল্পে তৎকালীন কলকাতা ও ঢাকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াত, কর্মস্থল বদল এবং সেই সঙ্গে জন্ম নেওয়া নানান জটিলতা এবং মানবিক কাহিনি নিপুণভাবে ফুটে উঠবে। চঞ্চল এখানে ‘সেলিমউল্লাহ’ নামের একজন মুসলিম পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে অভিনয় করেছেন। দেশের অস্থির সময়ে দুই বাংলার মানুষের সরে যাওয়ার প্রক্রিয়ার মাঝেই ঘটানো এক রহস্যময় হত্যা মামলার সমাধানই হবে তার চরিত্রের মূল দায়িত্ব।
চঞ্চল চৌধুরী তার চরিত্র ও ছবিকে নিয়ে আশাবাদী; তিনি মনে করেন এটি অত্যন্ত মানবিক এক গল্প, যেখানে ইতিহাসের সঙ্গে এক টানটান রহস্যও জোড়া লাগানো হয়েছে। অন্যদিকে ছোট পর্দার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মিত্তির বাড়ি’ থেকে উঠে আসা পৌলমী দাস প্রথমবার চঞ্চলের মতো অভিভাবক-শৈলীর অভিনেতার সঙ্গে কাজ করতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন এবং বলেছে যে ‘আজাদি’ দর্শকদের জন্য ভিন্নধর্মী সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা হবে।
ফিল্মের কারিগরি কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সম্প্রতি ডাবিংয়ের কাজও চলতি রাখার পরশোধন হয়েছে এবং চঞ্চল বর্তমানে কলকাতায় থেকে এটি সম্পন্ন করেছেন। নির্মাণ পক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরই ছবিটি প্রযোজনা ও মুক্তির প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে; তবে সাধারণ প্রেক্ষাগৃহে দেখানোর আগে ‘আজাদি’কে বিভিন্ন নামকরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের প্রস্তুতিও করা হচ্ছে। ইতিহাস ও রহস্যের সংমিশ্রণে তৈরি এই ছবিটি দুই বাংলার দর্শকদের মধ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।






