ওসাসুনার বিপক্ষে এল সাদারে শনিবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে বার্সেলোনা ২-1 গোলে জয় তুলে নেয় — সেই ম্যাচেই লিয়োনেল মেসির গড়া এক অনন্য রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন তরুণ মিডফিল্ডার পেদ্রি। এই লড়াই ছিল পেদ্রির ক্লাব জার্সিতে ২০০তম শুরুর একাদশ, এবং মাত্র ২৩ বছর ১৫৯ দিন বয়সে এই কৃতিত্ব করে তিনি ফাটিয়ে দিয়েছেন অনেককে তাক লাগানোর মতো এক মাইলফলক। এই সাফল্য কেবল এক ম্যাচের বিজয় নয়, বরং পেদ্রিকে বার্সেলার ইতিহাসে আরও এক ধাপে উঁচু ভুমিকায় নিয়ে গিয়েছে।
আগে এই রেকর্ডটি ধরা ছিল লিওনেল মেসির কাছে—মেসি যখন ২০০তম শুরুর একাদশে ছিলেন, তাঁর বয়স ছিল ২৩ বছর ২২৭ দিন। অর্থাৎ পেদ্রি মেসির চেয়ে দ্রুত সেই কীর্তি ছুঁতে সক্ষম হয়েছেন। পাশাপাশি তিনি সাবেক খেলোয়াড় ও কোচ জাভি হার্নান্দেজের করা পুরোনো রেকর্ডও পেছনে ফেলেছেন। তরুণ এই তারকার অগ্রযাত্রা বর্তমান বার্সেলা শিবিরের জন্য নিঃসন্দেহে যৌক্তিকতা আর ইতিবাচক বার্তা হয়ে এসেছে।
হানসি ফ্লিকের অধীনে পেদ্রি এখন দলের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা হিসেবেই পরিচিত। অসাধারণ কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও সৃজনশীলতার জোরে তিনি হয়ে উঠেছেন অনিবার্য এক সদস্য। চলতি লা লিগা মৌসুমে এখন পর্যন্ত ২৬টি ম্যাচে নামা পেদ্রি দুটি গোল করে দিয়েছেন এবং সতীর্থদের জন্য তৈরি করেছেন আটটি গোলের সুযোগ—সংখ্যাগুলি স্পষ্ট করে দেখায় তার প্রভাব কতটা গভীর। গাভির মতো প্রতিভাবান সহকর্মী থাকলেও পেদ্রির অভিজ্ঞতা ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা তাকে দলের মেরুদণ্ডে পরিণত করেছে।
পেদ্রির রেকর্ডের রাতে বার্সেলোনা লিগ টেবিলে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করেছিল; বর্তমানে তারা দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১৪ পয়েন্ট এগিয়ে। লিগে হাতে থাকা মাত্র চারটি ম্যাচে প্রয়োজনীয় পয়েন্ট তুলে ১০০ পয়েন্টের মাইলফলক স্পর্শ করাই এখন ক্লাবটির প্রধান লক্ষ্য, এবং দল মানসিকভাবে সেই লক্ষ্যের দিকে বেশ আত্মবিশ্বাসী।
তবে পথে সহজ কিছু নেই—সম্মুখে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে এল ক্লাসিকো, যা বছরের অন্যতম বড় লড়াই। যদিও শিরোপা প্রায় নিশ্চিতের পথে, এই বিরাট মর্যাদার ম্যাচটি বার্সার জন্য একটি সম্মানিত পরীক্ষা হিসেবে থাকবে। ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, পেদ্রির বর্তমান ফর্ম ও ধারাবাহিকতা যদি বজায় থাকে, তাহলে এল ক্লাসিকোতেও বার্সেলোনা শক্তিশালী ফুটবল দেখাতে পারবে। অনেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে দেখছেন—পেদ্রির উত্থানকে মেসির যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে, এবং তার খেলা ক্লাব সমর্থকদের মধ্যে নতুন আশা জাগিয়েছে।






