ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে শিরোপা লড়াইতে বড় এক নাটকির পর আর্সেনাল স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে এভারটনের মধ্যোভাগী প্রতিরোধের সামনে ৩-৩ গোলে ড্র করেছে ম্যানচেস্টার সিটি, যার ফলে গুনারদের শিরোপা জয়ের সুযোগ আরও সরল হয়ে উঠেছে।
ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন সিটি; বিরতির কিছুক্ষণ আগে ৪৩ মিনিটে জেরেমি ডকুর দুর্দান্ত বাঁকানো শটে তারা এগিয়ে যায়। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পুরো দৃশ্যপট বদলে যায়। এভারটন ১৪ মিনিটে শ্বাসরুদ্ধকর এক আক্রমণে তিনটি গোলে ফিরিয়ে আনে ম্যাচকে তাদের কাষ্ঠে। ৬৮ মিনিটে মার্ক গুয়েহির ভুল থেকে সুযোগ নিয়েই থিয়েরো বারি সমতা ফেরান। এরপর ৭৩ মিনিটে জেক ও’ব্রায়ানের শক্তিশালী হেড এবং ৮১ মিনিটে বারির ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলে স্বাগতিকরা ৩-১ করে মাঠে উত্তেজনার পাইকুড়ে।
দুই গোলে পিছিয়ে থেকে ম্যানচেস্টার সিটি মরিয়া আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দলের প্রধান তারকা আর্লিং হালান্ড দ্রুত একটি গোল শোধ করে ব্যবধান ৩-২ এ নামান এবং ম্যাচে উপসংহার অজানাই মাত্র কণ্ঠস্থ করা মনে হচ্ছিল। কিন্তু যোগ করা সময়ে জেরেমি ডকু আবারও নেমে এসে ব্যক্তিগত দ্বিতীয় গোলে সিটির জয় রক্ষার চেষ্টা সফল করেন ও ম্যাচকে ৩-৩ তে সমান করে দেন। ম্যাচ শেষ হলে সিটিজেনদের চেহারায় হতাশা স্পষ্ট ছিল, যদিও এক পয়েন্ট তো তারা পেল।
টেবিলের দিক থেকে এই ড্র আর্সেনালের পক্ষে খুঁটিনাটি সব সুবিধাই বাড়িয়ে দিয়েছে। ৩৫ ম্যাচে ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বলিষ্ঠ অবস্থান ধরে রেখেছে আর্সেনাল, আর এক ম্যাচ কম খেলা ম্যানচেস্টার সিটির সংগ্রহ এখন ৭১ পয়েন্ট। অর্থাৎ গানারদের চেয়ে পাঁচ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা সিটির জন্য চাপ অনেক বাড়ল; যদিও একটি ম্যাচ হাতে আছে, তবু আর তেমন সহজ অবস্থায় তারা নেই। যদি আর্সেনাল তাদের বাকি তিন ম্যাচ জিততে পারে, তাহলে ২২ বছরের শিরোপা শুষ্কা শেষ করার সুবর্ণ সুযোগ তাঁদের হাতেই চলে আসবে।
সামগ্রিকভাবে সিটির রক্ষণভঙ্গির দুর্বলতা ও সীমাহীন ভুলগুলো—বিশেষত মার্ক গুয়েহির একটি ভুল—এই ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে এভারটনের সাহসী ও সংকল্পবদ্ধ পারফরম্যান্স লিগের সমীকরণে নতুন মোড় এনেছে। এখন থেকে প্রতিটি ম্যাচই বিবেচনায় ‘চূড়ান্ত পরীক্ষা’; কেবলি সামান্যতম ত্রুটিই শিরোপার স্বপ্ন কেড়ে নিতে পারে।






