চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) প্রথমবারের মতো পিএইচডি, এমফিল ও মাস্টার্স (থিসিস) গবেষকদের জন্য নিয়মিত গবেষণা বৃত্তি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গত সোমবার (৪ মে) নিশ্চিত করেছেন চাকসুর গবেষণা ও উদ্ভাবনবিষয়ক সম্পাদক তানভীর আঞ্জুম শোভন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃত্তির এই নতুন প্রনোদনার আওতায় গবেষকদের জন্য বৃত্তির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে — চার বছরের মেয়াদি পিএইচডি গবেষকরা পাবেন ৪০,০০০ টাকা, দুই বছরের মেয়াদি এমফিল গবেষকরা ২০,০০০ টাকা এবং ছয় মাস মেয়াদি মাস্টার্স (থিসিস) গবেষকরা পাবেন ১৫,০০০ টাকা।
পিএইচডি ও এমফিল গবেষকদের জন্য বৃত্তি প্রতি বছর নবায়নযোগ্য হবে; নবায়নের জন্য নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ করে আবেদন করতে হবে। নবায়নের ক্ষেত্রে সুপারভাইজারের সন্তোষজনক মতামত এবং একাডেমিক কমিটির সুপারিশকে বাধ্যতামূলক ধরা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবায়নের আবেদন না করলে বৃত্তি নবায়ন করা হবে না।
২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভর্তিকৃত পিএইচডি, এমফিল এবং মাস্টার্স (থিসিস) গবেষকরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। শিক্ষাবর্ষ হিসেবে জুলাই-জুন হিসাব ধরে বৃত্তি প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে এবং আবেদন করার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র পূর্ণকালীন (ফুল-টাইম) শিক্ষার্থীদেরই সুযোগ দেওয়া হবে।
গবেষণার মান নিশ্চিত করতে কিছু প্রকাশনা ও কাজের শর্তও রাখা হয়েছে। পিএইচডি গবেষকদের তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষে প্রতিটিতে কমপক্ষে একটি করে পিয়ার-রিভিউড প্রকাশনা এবং এমফিল গবেষকদের অন্তত একটি পিয়ার-রিভিউড প্রকাশনা থাকতে হবে; এই শর্ত পূরণ না হলে প্রাপ্ত বৃত্তির অর্থ ফেরত দিতে হবে। আবেদন ও বাছাই প্রক্রিয়া গবেষণা পরিচালনা ও প্রকাশনা দপ্তর কর্তৃক গঠিত বাছাই কমিটির সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে সম্পন্ন করা হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিগ্রি সম্পন্ন করতে না পারলে বৃত্তির অর্থ ফেরত দিতে হবে। তবে অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, দুর্যোগ বা মহামারির মতো গ্রহণযোগ্য কারণে সর্বোচ্চ এক বছর সময় বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। বৃত্তির অর্থ শুধুমাত্র গবেষণা কাজে ব্যয় করা যাবে এবং অন্য কোনো খাতে ব্যবহার করার অনুমতি নেই।
চাকসুর গবেষণা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সম্পাদক তানভীর আঞ্জুম শোভন বলেন, ‘প্রথমবারের মতো এ উদ্যোগটি চালু করা হয়েছে। মাস্টার্স থিসিসের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে শীর্ষস্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের এই বৃত্তির আওতায় আনা হবে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পরবর্তীতে কোন খাতে কত অর্থ ব্যয় করা হয়েছে তার বিস্তারিত হিসাব জমা দিতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান বলেন, ‘আবেদন অনুমোদিত হলে প্রত্যেক প্রাপ্য শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে। তবে একজন শিক্ষার্থী যদি একাধিক বৃত্তি গ্রহণ করে থাকে তাহলে ওই বৃত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না।’
চবি-র এই পদক্ষেপটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণামুখী পরিবেশকে আরও উৎসাহিত করবে এবং তরুণ গবেষকদের পক্ষে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।






