দীর্ঘ ১১ বছরেও ৯ম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হওয়ায় উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে বলে অভিযোগ ব্যক্ত করে খুলনায় বিভাগীয় প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্রুত গেজেট প্রকাশ ও পে-স্কেল বাস্তবায়ন করার দাবি জানানো হয় সমাবেশে।
শুক্রবারের পরিবর্তে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশটি বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, খুলনা জেলা শাখার উদ্যোগে শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় হোটেল জেলিকোর সেমিনার কক্ষে আয়োজন করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ইউনিটের কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান বেতন কাঠামোর অসামঞ্জস্যের ফলেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আর্থিকভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ কারণে পেশাগত জীবন ও পরিবারগত দায়িত্ব পালন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সমাবেশের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মোঃ আবদুল মালেক। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি সোহানা মির্জা।
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান বক্তার ভূমিকায় বক্তব্য রাখেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মু. শাহাবুদ্দিন মুন্সী, মোঃ শাহিন খান ও কেন্দ্রীয় সদস্য মোঃ রাসেল শেখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শেখ মহি উদ্দিন প্রিন্স। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মোঃ নাজমুল ইসলাম ও রাসেল আহমেদ শরীফ। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন অর্থ বিষয়ক সম্পাদক কামরুল হাসান।
প্রধান অতিথি মোঃ আবদুল মালেক তার বক্তব্যে বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম প্রধান শক্তি। কিন্তু দীর্ঘদিনেও নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হওয়ায় তাদের জীবনমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি দ্রুত গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়ন করে তাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।
উপস্থিতরা সরকারের কাছে অতিদ্রুত ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়ন, পাশাপাশি বর্তমান জীবনযাত্রার খরচের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি আর্থিক ব্যবস্থার খসড়া করার দাবি জানান। সমাবেশে তারা দাবি পূরণ না হলে কর্মজীবী প্রতিনিধিদের সংগঠিতভাবে আন্দোলনের কথাও উত্থাপন করেন।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়ের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরে ন্যায্য বেতনের ব্যবস্থা না হলে সরকারি সেবার মানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সতর্ক করেন। শেষ দিকে এমনই দাবিদাওয়া ও প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সমাবেশ সমাপ্ত হয়।






