দেশের প্রধান নিলাম কেন্দ্র চট্টগ্রামে দামের উত্থান দেখা গেলেও শ্রীমঙ্গল ও পঞ্চগড়ে নিলামে উল্টো চিত্র দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রামের দ্বিতীয় নিলামে গড় দাম বাড়লেও অন্য দুই কেন্দ্রে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং দাম নেমে যাওয়ায় চাহিদা-বজার অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।
চা বোর্ডের তথ্যে, চট্টগ্রামে গত ৪ মে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় নিলামে মোট ১০ লাখ ১২ হাজার ৫১২ কেজি চা গড়ে কেজিপ্রতি ২৮০ টাকা ৫২ পয়সা দরে বিক্রি হয়েছে। প্রথম নিলামের গড় দাম ছিল ২৭৪ টাকা, ফলে দ্বিতীয় নিলামে কেজিপ্রতি প্রায় ৬ টাকা বৃদ্ধি ঘটেছে। বিপরীতভাবে, শ্রীমঙ্গলের দ্বিতীয় নিলামে (৫ মে) গড় দাম আগে যেটি ছিল ২৬৭ টাকা, তা কমে ২৪৩ টাকা ৭৫ পয়সায় নেমে এসেছে। পঞ্চগড় নিলাম কেন্দ্রেও দামের নিম্নমুখী প্রবণতা ও সরবরাহে হ্রাস দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে এই বৈচিত্র্যের মূল কারণ হলো চা পণ্যের গুণগত মান এবং সরবরাহ পরিস্থিতির পার্থক্য। চট্টগ্রাম ঐতিহ্যগতভাবে উচ্চমানের চায়ের জন্য ক্রেতাদের প্রাধান্য পেয়েছে এবং বর্তমানে দেশি চা লেনদেনের ৯৫ শতাংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করে রাখছে। ফলে ভালো মানের চারাগুলি এখানে জমে দাম বাড়ছে।
নিলামে উচ্চ দামে বিক্রি হওয়া বাগানের মধ্যে মধুপুরের চা বাগান শীর্ষে রয়েছে; তাদের নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির চা কেজিপ্রতি ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেচা হয়েছে। জেরিন, মির্জাপুর এবং গাজীপুরের চা বাগানগুলোর পণ্যও উচ্চমূল্যের তালিকায় এসেছে। একই সঙ্গে ব্রোকারদের মাধ্যমে তৃতীয় নিলামের জন্য বর্তমানে ১৬ লাখ ৬৬ হাজার কেজিরও বেশি চা বিক্রির প্রস্তাব এসেছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
দেশে বার্ষিক চায়ের চাহিদা প্রায় ৯ কোটি কেজিরও বেশি। গত মৌসুমে ১৭২টি বাগান থেকে মোট ৯ কোটি ৪৯ লাখ ২৭ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়। এ বছরে চা বোর্ড উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি নির্ধারণ করেছে। এপ্রিলে পর্যাপ্ত বর্ষা ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে, ফলে বাগান মালিকরা উৎপাদন ও বিক্রিতে আশাবাদী।
সংক্ষেপে, একদিকে চট্টগ্রামে দর বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা ভালো মানের পণ্যের জন্য বেশি দাম দিতে প্রস্তুত, অন্যদিকে শ্রীমঙ্গল ও পঞ্চগড়ে সরবরাহ বাড়ার সুযোগের অভাবে বা মানগত কারণে দর নেমে যাওয়ার পরিস্ফুটন ঘটেছে। ভবিষ্যৎ নিলাম ও মৌসুমের উৎপাদন পরিস্থিতিই চূড়ান্ত ট্রেন্ড নির্ধারণ করবে বলে বাজার শোনাচ্ছে।






