যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম দ্রুত নিচে নেমেছে। সোমবার স্পট গোল্ডের দাম ১.২ শতাংশ পড়ে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ৬৫৭ দশমিক ৮৯ ডলারে চলে আসে। একই সময় মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দামও ১.৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪ হাজার ৬৬৫ দশমিক ৭০ ডলারে ল্যান্ড করেছে — খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
আলোচনার ব্যর্থতার সরাসরি প্রভাব দেখা গেছে তেলের বাজারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর তেলের দাম আবার উঠে যেতে শুরু করে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ‘‘তাৎক্ষণিকভাবে শান্তি চুক্তির আশা ভেঙে পড়েছে। হরমুজ প্রণালী অচল হয়ে সরবরাহে উদ্বেগ বাড়ায় কাঁচা তেলের দাম উঠলে স্বর্ণ বাজারে চাপ বাড়ছে।’’ ফলে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিভিত্তিক পছন্দ থেকে সরতে শুরু করেছেন।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, তেলের উচ্চমূল্য বিশ্বজুড়ে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বহু কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমানোর পরিবর্তে উচ্চ রাখার পথ নিতে পারে। স্বর্ণ সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচিত হলেও উচ্চ সুদের হার থাকলে বিনিয়োগকারীরা সুদবিহীন এই সম্পদে অনেকটাই অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন।
বড় বিনিয়োগব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসও তাদের পূর্বাভাস পিছিয়ে দিয়েছে; তারা বলছে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের আগেই মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদ কমাবে না। একইসঙ্গে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সংকট আর জ্বালানি দামের অস্থিরতা বর্তমানে বৈশ্বিক আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।
চীনেও স্বর্ণ উৎপাদন হ্রাসের খবর আসছে, যা সরবরাহের দিকে চাপ বাড়ায়। তবু বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্থায়ী শান্তি ছাড়া স্বর্ণের দাম বড় মাত্রায় উঠানামা করবে। টিম ওয়াটারার আশা করছেন, কোনো স্থায়ী চুক্তি না হলে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ ডলারের মধ্যে দোলানোর সম্ভাবনা বেশি।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দরও আন্তর্জাতিক বাজারে নিম্নমুখী দেখা যাচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, বিশ্বের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও জ্বালানির সরবরাহজনিত উদ্বেগই বর্তমানে ধাতু-বাজারে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে, এবং পরবর্তী শান্তিচুক্তি বা তেলের স্থিতিশীলতাই দেখে দেওয়ার সম্ভাব্য পথ নির্ধারণ করবে।






