ঢাকা টেস্টের চতুর্থ দিনের শেষে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের লড়াই এখন এক উত্তেজনাকর মুডে পৌঁছেছে। দিনের অনেক সময় বৃষ্টি ও আলোর সমস্যা miatt নষ্ট হওয়ার পরও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখনও টাইগারদের হাতেই আছে। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছে ১৫২ রান; ফলে হাতে থাকা ৭ উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের লিড দাঁড়িয়েছে ১৭৯ রানের। তাই এখন পঞ্চম দিনই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।
শুরু থেকেই দুটি দলই সমান লড়াই করেছে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিলেন ৪১৩ রানের বড় সংগ্রহ, জবাবে পাকিস্তানও প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ৩৮৬ পর্যন্ত পৌঁছায়। প্রথম ইনিংস শেষে ২৭ রানের গণ্ডি নিয়ে ফেরার পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের সকালটা কিছুটা টলমলে ছিল—দুই ওপেনার দ্রুত আউট হওয়ায় চাপ তৈরি হয়। কিন্তু নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে ম্যাচের বন্দোবস্ত ফিরে এনেছেন।
শান্ত ও মুমিনুলের সংযত এবং অভিজ্ঞ ব্যাটিং বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ গঠনের পথে এগিয়ে নিয়েছে। তাদের স্ট্যামিনা ও ধৈর্যের কারণে পাকিস্তানি বোলাররা বেশ কিছুক্ষণ উইকেট নিতে পারেনি। এরপরই লাঞ্চের পরে অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি খেলার গতিকে থমকে দেয়—বৃষ্টির তীব্রতার কারণে দ্বিতীয় সেশন পুরোপুরি পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে হয় এবং এতে দিনের নির্ধারিত ওভারগুলোর বড় অংশ মাঠে ঘটেনি।
বৃষ্টি থেমে চা বিরতির পর খেলা পুনরায় শুরু হলেও আকাশ মেঘলা থাকায় দ্রুত আলোর ঘাটতি দেখা দেয়। আলোর স্বল্পতা বিবেচনায় আম্পায়াররা নিয়মিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন। ফলে বাংলাদেশ দিনের শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে ১৫২ রানে হাতে সাতটি উইকেট রেখে দিন পার করে।
টাইগার শিবিরের লক্ষ্য থাকবে পরের সকালে দ্রুত কিছু রান যোগ করে পাকিস্তানের সামনে চ্যালেঞ্জিং একটি টার্গেট ছেড়ে দেয়া। অন্যদিকে পাকিস্তান চেষ্টা করবে পঞ্চম দিনের শুরুতেই দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ গড়তে বাধা দেয়ার।
মিরপুরের পিচ স্পিন-সহায়ক হওয়ায় যদি বৃষ্টি না আসে, তাহলে শেষ দিনেও নাটক ও রোমাঞ্চ দেখার সম্ভাবনা অনেক। পঞ্চম দিন হবে উভয় দলের জন্যই সমান গুরুত্বপূর্ন—একদিকে লিড বাড়ানো, অন্যদিকে বিরাট লক্ষ্য ছুঁতে না দেওয়ার তীব্র প্রতিযোগিতা।






