পবিত্র ঈদুল আজহার আগমনকে সামনে রেখে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার ঘরমুখো মানুষের বাড়ি ফেরা শুরু হওয়া সত্ত্বেও মাওয়া প্রান্তে এখন পর্যন্ত পদ্মা সেতুতে কোনো বড় ধরনের যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। যাত্রী ও চালকদের মধ্যে অনাবশ্যক ভোগান্তি ছাড়াই যানবাহনগুলো সেতু দিয়ে স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করছে।
ওই স্বস্তিদায়ক পরিবেশ বজায় রাখতে সেতু কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিকভাবে মাঠ পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে। যদিও ঈদে মাত্র তিন দিন বাকি থাকায় কর্তৃপক্ষ আশাহত নন—তারা বলছেন, সোমবার (২৫ মে) থেকে ঘরমুখো মানুষের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। অতীতের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী ঈদের ঠিক দুই-তিন দিন আগে যাত্রীর চাপ বেড়ে যায়, তবে টোল আদায়ের আধুনিক পদ্ধতির কারণে বড় ধরনের দীর্ঘজটের আশঙ্কা কম।
পদ্মা সেতু সাইট প্রকৌশলী আবু সাদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ১২টা থেকে রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে মোট ২৫,৯৯৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এই সময়ে সেতুর দুই প্রান্ত থেকে মোট ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৩৫০ টাকা টোল আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ১৩,২৭৯টি যানবাহন পারাপারের বিপরীতে প্রায় এক কোটি ৬৮ লাখ ৬ হাজার টাকা টোল আদায় হয়েছে এবং জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ১২,৭২০টি যানবাহন পারাপার হয়ে প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ ৯৪ হাজার টাকা সংগৃহীত হয়েছে।
যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে দক্ষিণবঙ্গগামী পথে হাসাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ জানান, মহাসড়কে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের ৬টি বিশেষ টিম কাজ করছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ চারটি স্থানে স্থায়ী চেকপোস্ট চালু রয়েছে এবং দুইটি মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক পুরো পথ মনিটরিং করছে।
হাইওয়ে পুলিশ, স্থানীয় থানা পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঈদযাত্রাকে আনন্দময় ও নির্বিঘ্ন রাখতে তারা সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
পরিবহন ও যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় টোল প্লাজাগুলোতে অতিরিক্ত বুথ চালুর ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে লেন-লক বা দীর্ঘ অপেক্ষা না হয়। সব মিলিয়ে এবারের ঈদযাত্রা এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক ও ভোগান্তিহীন বলতে সংকোচ নেই—তবে বাড়তি সতর্কতা ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে।






