আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমার আভাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারে সস্তার হাওয়া বইতে শুরু করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির জোরালো আশায় কাঁচা তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে নামেছে এবং শেয়ারবাজারে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৩ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯১.৫৪ ডলারে নেমে এসেছে। চলতি মে মাসের শুরু থেকে ব্রেন্টের মূল্য প্রায় ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা অর্থনীতিবিদদের মতে সাম্প্রতিক কালের অন্যতম বড় দরপতন। একই সঙ্গে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও ১.৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৭.৬৪ ডলারে এসেছে; চলতি সপ্তাহের শুরুতে এই দাম সর্বোচ্চ ৯৪.৭০ ডলারের কাছাকাছি গিয়েছিল।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সমাধানের সম্ভাবনা সরাসরি বাজারে আশার সঞ্চার করেছে। ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই-র এই পতন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যস্ফীতির ওপর বিরূপ চাপ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে।
যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে একটি খসড়া শান্তিচুক্তি মিত্র দেশগুলোর কাছে বিলি করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুদেশই ৬০ দিনের জন্য সাময়িক যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর উপর প্রাথমিকভাবে সম্মতি পেয়েছে। তবে ওই খসড়াটি এখনো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পায়নি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের কথায়, চুক্তি এখনও চূড়ান্ত না হলেও দুই পক্ষই সমঝোতার শেষ পর্যায়ে আছে।
গত প্রায় ৯০ দিন ধরে চলা ইরান-সংঘাত বিশ্ববাজারে তীব্র অস্থিরতা ও মূল্যস্ফীতি বাড়িয়েছিল। যুদ্ধ চলাকালে হরমুজ প্রণালি এক পর্যায়ে বন্ধ হওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল, ফলে জ্বালানি বাজারে তীব্র সংকট তৈরি হয়। এই কারণেই শান্তি-আশার যে সঙ্কেত এসেছে, তা বাজারে খুবই ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডয়চে ব্যাংকের প্রধান বিশ্লেষক হেনরি অ্যালেন বলেছেন, বাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এখন সংঘাতের স্থায়ী অবসান সম্পর্কে জোরালো আস্থা তৈরি হতে শুরু করেছে। তেলের দাম পড়ার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী stagflation বা অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতির বড় ঝুঁকি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে বলে অনেক বিনিয়োগকারী মনে করছেন।
জ্বালানি বাজার শান্ত হওয়ার প্রভাব শেয়ারবাজারগুলোতেও স্পষ্ট দেখা গেছে। এশিয়ায় জাপানের নিক্কেই সূচক মঙ্গলবার একলাফে ২.৫ শতাংশ বেড়েছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এশিয়ার পাশাপাশি ইউরোপ ও আমেরিকার শেয়ারবাজারগুলোতেও ইতিবাচক প্রবণতা বজায় রয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সাহায্য করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেন যে শান্তিচুক্তি এখনো আনুষ্ঠানিক হয়নি — তাই বাজারে এখনকার উত্থান স্থায়ী হবে নাকি না, তা সময়ই বলবে। বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যত সংবাদ ও আনুষ্ঠানিক চুক্তির বিবরণ লক্ষ রেখে সিদ্ধান্ত নিতে বলছেন।






