ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে জাতির মৌলিক স্বার্থ ও অধিকার সুনিশ্চিত করা ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেবল তখনই তেহরান আলোচনা ও চুক্তির পথে এগোবে যখন দেশের স্বার্থ রক্ষা নিশ্চিত হবে।
রবিবার (৩১ মে) ভার্চুয়াল পার্লামেন্ট অধিবেশনে গালিবাফ এই বক্তব্য রাখেন, যা ইরানের মেহের সংস্থা গণমাধ্যমে প্রচার করেছে। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সংঘাত ও যুদ্ধাবস্থার মধ্যেও জনগণের ধৈর্য, অভ্যন্তরীণ ঐক্য এবং সশস্ত্র বাহিনীর সামরিক শক্তি তেহরানের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।
গালিবাফ বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌ-অভিযানে পাওয়া সফলতা কেবল আধুনিক অস্ত্রের কারণে নয়; এটি নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং সাধারণ মানুষের সক্রিয় সমর্থনের প্রতিফলন। তিনি দাবি করেন যে শত্রু পক্ষ রণক্ষেত্রে সুবিধা অর্জন করতে না পেরে এখন অর্থনৈতিক অবরোধ ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ইরানের অখণ্ডতায় আঘাত আনতে চেষ্টা করছে। ওই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্যকে তিনি প্রধান অস্ত্র হিসেবে তুলে ধরেন।
কূটনীতির উপর গুরুত্ব আরোপ করে গালিবাফ বলেন যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া তখনই অর্থবহ হবে যখন তা বাস্তব সফলতার ভিত্তিতে ইরানের স্বার্থ রক্ষা করবে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন, ইরানি কূটনীতিকরা প্রতিপক্ষের উৎসাহব্যঞ্জক বক্তব্য বা প্রতিশ্রুতির উপর অনবরত নির্ভর করবে না; তেহরান কেবল সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবগত সুবিধার বিনিময়ে তার বাধ্যবাধকতা পূরণ করবে।
শেষে গালিবাফ উল্লেখ করেন যে দেশের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নির্ধারণে সমরাস্ত্র, জনশক্তি ও কূটনীতির সমন্বয়ই মূল চালিকা শক্তি হবে। তিনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এইভাবেই দেশে স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে।






