বাধা ও স্থবিরতা কাটিয়ে দেশের অর্থনীতি উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আসছে সরকার। আগামী বাজেটে বিনিয়োগের পরিবেশ সুগম করতে বিভিন্ন কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, লাইসেন্স ও পারমিশন পাওয়া দ্রুততর করা, খরচ কমানোর জন্য ডি-রেগুলেশন প্রক্রিয়া বাড়ানো, এবং শিল্পের জন্য বড় ধরনের ছাড়ের ব্যবস্থা করা। বিশেষ করে, লাইসেন্স বা অনুমোদন প্রয়োজন হলে সেটি দ্রুত এবং অল্প সময়ে পেতে সহায়তা করবে এই পরিকল্পনা। নতুন আপডেটে ঘোষণা করা হয়েছে যে, আবেদন জমা দেওয়ার সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক অনুমতি বা প্রভিশনাল পারমিশন দেবে। আর যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত লাইসেন্স না দেয়া হয়, তবে মনে করা হবে যে ব্যবসাটি লাইসেন্স পেয়েছে। এর ফলে, লাইসেন্স নবায়নের ঝামেলা কমে আসবে এবং ৫ বছর পর্যন্ত লাইসেন্সের মেয়াদও বাড়ানো হবে, যার ফলে ব্যবসার স্বচ্ছতা ও স্থায়িত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে। বিষয়টি তাই অনেকটাই স্বস্তির খবর হিসেবে ধরা হচ্ছে ব্যবসায়ীদের জন্য। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন সংস্কার ও ডিরেগুলেশন পদ্ধতি সহজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর মাধ্যমে বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগকারীরা অবাধে নথিপত্র জমা দিতে পারবেন, অনুমোদন প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও স্বচ্ছ করে তুলতে হবে। পাশাপাশি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং এর মাঠ পর্যায়ের কার্যালয়গুলোর আধুনিকায়ন ও অটোমেশন নিয়ে কাজ চলছে, যার ফলে কর রিফান্ড সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে এবং করের প্রশাসনিক ঝামেলা কমবে। অর্থমন্ত্রী এই সকল পরিবর্তনের জন্য আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, এখন থেকে বিভিন্ন অনুমোদন জন্য একক একটি ওয়ান-স্টপ এন্ট্রি পয়েন্ট থাকবে। একাধিক সংস্থার অনুমোদন জটিলতা কমবে এবং যথাসময়ে অনুমোদন নিশ্চিত হবে। তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্যও কিছু সুবিধা আনা হতে পারে। এসএমই-এর জন্য বছরের টার্নওভার ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত হতে পারে, আর নারীরা এই সীমা পেতে পারেন ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত। স্টার্টআপ, ইনোভেশন ভেঞ্চার ও প্রযুক্তি ভিত্তিক ব্যবসার জন্য কর অব্যাহতির ব্যবস্থা আরও দীর্ঘায়িত করা হতে পারে। করের হয়রানি কমানোর জন্য এনবিআর অনলাইন পদ্ধতিতে কর রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি, দেরিতে কর রিটার্ন দাখিল করলে বেশি সড়ক জরিমানার পরিবর্তে উচিৎ হবে সময়মতো দাখিল করতে। এনবিআর স্পট অ্যাসেসমেন্টের সময় ব্যবসার মূলধনের চারগুণ পরিমাণ প্রাথমিক মূলধন হিসেবে নির্ধারণের সুযোগও আনতে পারে, যা বিনিয়োগ উৎসাহ বাড়াবে। জ্বালানি সংকট ও ইভি বৃদ্ধির জন্য বেশ কিছু কর ছাড়ের পরিকল্পনাও চলমান, যেমন ইভি চার্জিং স্টেশনের আমদানির অগ্রিম আয়কর পুরোপুরি প্রত্যাহার, রেজিস্ট্রেশনের ফি কমিয়ে আর্ধেক করা, ও উৎসে কর কমানোর নানা সিদ্ধান্ত। কাঁচামাল আমদানিতেও বড় ধরনের করছাড় দেওয়া হবে, যেমন অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করা, এবং অনাবাসী সরবরাহে কর কমানো। এছাড়া, বিদেশ থেকে ঋণের সুদ পরিশোধে উৎসে কর কমানোর পরিকল্পনাও কার্যকর হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের জন্য বড় ধরনের কর সুবিধা আনার প্রস্তুতি চলছে। এ খাতে বিনিয়োগকারীদের ৩৫ সাল পর্যন্ত কর রেহাই দেওয়া ও কর প্রণোদনার সুফল পাওয়া যাবে। রাজস্ব সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সময়সীমা নির্ধারণ, এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি সহজ ও দ্রুত করার জন্য নানা উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আবদুল মজিদ মনে করেন, যথাযথভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এসব উদ্যোগে ব্যবসা ও বিনিয়োগে গতি আসবে। তবে, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা যদি সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তাহলে এর সুফল বেশি পাওয়া যাবে। মোট মিলিয়ে, আগামী বাজেটে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ব্যবসায়ীক উদ্যোগের জন্য এক নতুন দিঝনে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।






