আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রশংসা ও পুরস্কারের পর বাংলাদেশের সাধারণ দর্শকের জন্য বড় পর্দায় আসতে যাচ্ছে সিনেমা ‘মাস্তুল’। মোহাম্মদ নূরুজ্জামান পরিচালিত এই ছবিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ১৭ জুলাই দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। মুক্তির এক মাস আগে, গত বুধবার চিত্রশিল্পী ধ্রুব এষ ডিজাইন করা প্রথম অফিসিয়াল পোস্টার প্রকাশ করে সিনেমাটির প্রচারণা শুরু করা হয়েছে।
গত বছর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত ও প্রশংসিত হওয়া ‘মাস্তুল’ বাছাই এবং সার্টিফিকেশন পর্যন্ত পৌঁছায়—গত বছরই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে দেশজুড়ে প্রদর্শনের অনুমতিও নেওয়া হয়েছিল। তবে নির্মাতা মোহাম্মদ নূরুজ্জামান জানিয়েছেন, পরিস্থিতি ও প্রস্তুতির বিবেচনায় একটু সময় নেন মুক্তি টেনে আনার জন্য।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে ছবিটি ইতিমধ্যেই স্বীকৃতি পেয়েছে: ৪৭তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে ‘স্পেশাল মেনশন’, রাশিয়ার ১৮তম চেবোক্সারি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘বেস্ট আর্টিস্টিক কন্ট্রিবিউশন’ এবং স্পেনের ২৬তম ইমাজিন ইন্ডিয়া আন্তর্জাতিক উৎসবে ‘সেরা মানবিক চলচ্চিত্র’ বিভাগে মনোনয়ন—এসবই সিনেমাটির গুণের প্রমাণ।
‘মাস্তুল’ গল্পটা আবর্তিত হয়েছে একটি জ্বালানীবাহী তেলের ট্যাংকারের বৃদ্ধ রাঁধুনি মকবুল ও নদীপথের এক পথশিশু নূরার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে। তাদের ঘনিষ্ট সম্পর্কের মাঝেই উঠে এসেছে নদী ও বন্দর এলাকায় ভাসমান সাধারণ মানুষের জীবনযাপন, বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি, স্নেহ ও ক্ষমতার সংঘাত এবং টিকে থাকার জোরালো সংগ্রাম। বাস্তবতার ধার ধরে রাখতে সিনেমাটির শুটিং করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জের ব্যস্ত জাহাজঘাট, নদীবন্দর ও জনবহুল মাছবাজারের মতো প্রকৃত লোকেশনে। নির্মাতা জানিয়েছেন, ট্যাংকারে কাজ করা প্রকৃত খালাসিদেরকে অভিনয়ে নিয়ে এনে বাস্তব অভিব্যক্তি ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
চিত্রনাট্যভিত্তিক এই ছবিতে কাজ করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, দীপক সুমন, আমিনুর রহমান মুকুল, আরিফ হাসান, সিকদার মুকিত, শাহজাহান শোভন, সিফাত বন্যা প্রভৃতি অভিনেতারা। ছবিটির চিত্রগ্রহণ করেছেন মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান, শিল্প নির্দেশনা দিয়েছেন হুসনাইন লিঙ্কন, সংগীতায়ন করেছেন চৈতন্য রাজবংশী। কাস্টিং ডিরেক্টর হিসেবে রয়েছেন যুবরাজ শামীম এবং প্রচারণার সুর করেছেন লাবিক কামাল গৌরব।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘সিনেমাকার’ তৈরিকৃত এই চলচ্চিত্রটির ডিজিটাল ডিস্ট্রিবিউশন ও প্রচারণার দায়িত্বে আছে ‘টঙ ঘর টকিজ’। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের সোনালি সুনাম নিয়ে আসা এই সিনেমাটি জনপ্রিয়তা পেয়ে দেশের দর্শকেরও হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিতে পারে বলে নির্মাণ টিম আশা করছে।






