চট্টগ্রাম মহানগরে পদ ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে হোটেলে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং হুমকির অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ওই তরুণী চকবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে দলের অভ্যন্তরে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ জুন) নগরের কাজীর দেউড়ির একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী নারী। তিনি জানান, গত ১৪ জুন সন্ধ্যায় ‘‘কামিটি গঠনসংক্রান্ত জরুরি আলোচনা’’ বলে তাকে হোটেল দ্য পেনিনসুলার ১৫ তলার রুফটপ বারে আনা হয়। সেখানে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দীন এবং জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রিয় কমিটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া আফরিনসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
ভিকটিম দাবি করেন, প্রথমে রাজনৈতিক পদ ও আকর্ষণীয় চাকরির প্রলোভন দেখানো হয়। পরে ধূমপান ও মদপানে উৎসাহিত করে বিভিন্ন ধরনের পানীয় গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। সূত্রে তিনি বলেন, সাদিয়া আফরিন যখন সেখান থেকে চলে যান, তখন এস এম সুজা উদ্দীন বারবার তাকে পাশে বসতে বলায় এবং অশালীন আচরণ শুরু করেন।
তিনি আরও জানান, এস এম সুজা উদ্দীনের আচরণ, অঙ্গভঙ্গি ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ আপত্তিকর ও যৌন হয়রানিমূলক ছিল। অনিচ্ছা সত্ত্বেও প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে ‘ডিল অর ডেথ’ বলে সরাসরি হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক আঘাতের মধ্যে পড়ে তিনি পরে পুলিশের দ্বারস্থ হন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নিজেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী, এনসিপির কর্মী ও চট্টগ্রাম মহানগর নারীশক্তির পদপ্রত্যাশী হিসেবে পরিচয় দেন। মামলায় নামপরিচয় উল্লেখ করে এস এম সুজা উদ্দীন ও সাদিয়া আফরিনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য নিতে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
হোটেল দ্য পেনিনসুলার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুলিশ ইতিমধ্যেই হোটেলে এসে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে এবং হোটেল কর্তৃপক্ষ তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে। এই ঘটনার সঠিক পরিণতি নির্ধারণে পুলিশ ও দলের তদন্ত কমিটির কাজ চলছে।






