ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলে আবারও একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যা ইতিমধ্যে জনমনে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আল জাজিরার মঙ্গলবারের (২৭ জুন) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৯।
গত বুধবার দেশটি দুইটি প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই পুনরায় কেঁপে উঠায় স্থানীয়রা অনিশ্চিততার মধ্যে পড়েছেন। ওই ভয়াবহ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৯২০ জনে দাঁড়িয়েছে এবং রাজধানী কারাকাসসহ অনেক এলাকা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ইএমএসসি জানিয়েছে, সর্বশেষ কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর ভেনেজুয়েলায় মারাকাই শহর থেকে প্রায় ৬১ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। শিল্পের পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নতুন এই কম্পনে এখনো কোনো পৃথক ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট মিলেনি।
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবারও কারাকাস ও মারাকাইসহ বিভিন্ন স্থানে কম্পন অনুভূত হয়েছিল, যা স্থানীয় মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভেঙে পড়া ভবনের নিচে এখনও ১৭২ জন আটকা পড়ে আছেন এবং আহতের সংখ্যা অন্তত ৩৩৬০। আহত ও নিখোঁজের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে; সরকারের হিসেবে নিখোঁজের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস সতর্ক করেছে যে শেষ পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে, এমনকি ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুক্রবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো জানিয়েছেন, লা গুয়াইরা রাজ্যের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সীমিত করা হবে। উদ্ধারকারী দল ও জরুরি সহায়তা কর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধারে বেগবান রয়েছেন।
জরুরি কর্মী ও স্থানীয়রা এখন দ্রুত ত্রাণ, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছেন। পুনরুদ্ধার কাজ চলমান থাকায় পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে আরও আত্মসাৎ, সহায়তা ও তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে।






