ফেনীর ছাগলনাইয়া ও ফুলগাজীতে পৃথক পৃথক সময়ে দুই জনের নিহতের ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পুলিশ দুই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্টদের খুঁজছে।
ছাগলনাইয়ায় শনিবার (২৭ জুন) নিজ বাড়ির সামনে যোবায়ের হোসেন পারভেজ নামে এক যুবকের গলাকাটা ও হাতকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, পারভেজের লাশ তার নিজকুঞ্জরা গ্রামের বাড়ির সামনে পড়ে থাকার খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ সেখানে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত পারভেজ সম্পর্কে পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, তিনি ওই এলাকার ওয়ার্ড যুবলীগের সংগঠক ছিলেন।
নিহতের বাবা আবু তাহের ছাগলনাইয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি অভিযোগে বলেন, প্রতিবেশী সাদেক মিয়ার ছেলে শাহাদাত হোসেন ও মামুনুর রশিদ মামুনের সঙ্গে পারভেজের দীর্ঘদিন ধরে বনিবনা ছিল না। শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় একটি দোকানে মোবাইল নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির ঘটনা ঘটে; ওই বিরোধ থেকেই হত্যার সম্ভাব্য সূত্র মিলতে পারে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
ছাগলনাইয়া থানা পরিস্থিতি তদন্ত করছে; থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের জানিয়েছেন, পারভেজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় প্রায় ২৫টি মামলা রয়েছে এবং সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। পুলিশের পর্যবেক্ষণে নিহতের পরিচয়, পূর্বঘটনার নেপথ্য ও অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের ধরার চেষ্টা চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অপরদিকে ফুলগাজীতে শুক্রবার গভীর রাতে কুয়েতে প্রবাসী এক ব্যক্তির স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ তালবাড়িয়া গ্রামের ইসমাইল মাস্টার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম কাজল (৩৫); তিনি ওই বাড়ির কুয়েতপ্রবাসী নুরুল আমিনের স্ত্রী এবং তিন সন্তানের মা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘটনার রাতে কাজল শুধু ছিলেন ও সঙ্গে তাঁর দুই বছরের ছোট ছেলে ছিল। দুর্বৃত্তরা বাড়ির টিনের চাল কেটে উপরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে কাজলের হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে—এটি প্রাথমিক ধারণা; ময়নাতদন্তের ফল বেরিয়ে আসার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা হবে।
খবর পেয়ে ফুলগাজী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। হত্যার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় শত শত মানুষ বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে নানা প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন। ফুলগাজী থানার ওসি এম এম মিজানুর রহমান ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
উভয় ঘটনায় পুলিশ জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য সবকিছু পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছেন এবং ন্যায়বিচارہ প্রত্যাশা করছেন।






