বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা অনুপম খের দীর্ঘ ২৬ বছর পর আবারও বাংলা চলচ্চিত্র জগতে ফিরছেন — তবে এবার অভিনয়ের দিকে নয়, প্রযোজক হিসেবে। তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে তৈরি হতে যাচ্ছে নতুন বাংলা ছবি ‘শুরু থেকে শুরু’, যা তার কলকাতা-ভিত্তিক প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অনুপম খের সর্বশেষ বাংলা সিনেমা প্রযোজনা করেছিলেন ১৯৯৯ সালে ঋতুপর্ণ ঘোষের পরিচালিত ‘বাড়িওয়ালি’ ছবিটি। আড়াই দশকেরও বেশি সময় বাংলা চলচ্চিত্র থেকে দূরে থাকার পর এই নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি আবার ফিরছেন।
তিনি বলেন, মধ্যবর্তী সময়ে ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ ছবির মুক্তি ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন সরকারের সঙ্গে যে আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা তাকে হতাশ করেছিল। যদিও পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে — রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরই অনুপম খের বাংলা নিয়ে কাজ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। কলকাতায় পৌঁছার পরে তিনি নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক করেন। বৈঠকের পর অনুপম খের সংবাদমাধ্যমের সামনে মন্তব্য করে নতুন সরকারে তার পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করেন এবং বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করতে চান বলে জানান। তিনি কলকাতায় একটি আন্তর্জাতিক মানের অভিনয় বিদ্যালয় বন্ধুর ইচ্ছাও প্রকাশ করেন—যার ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীরও সমর্থন ও শুভকামনা পেয়েছেন।
‘শুরু থেকে শুরু’ ছবিটি অনুপম খেরের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে ফিরদৌসুল হাসানের সঙ্গে যৌথভাবে প্রযোজিত হবে। ছবিটি পরিচালনা করবেন শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়; বিজ্ঞাপন নির্মাণে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা শমীকের জন্য এটি প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
ছবির কেন্দ্রীয় ত্রয়ী চরিত্রে থাকছেন টোটা রায়চৌধুরী, পাওলি দাম ও রাহুল বোস। নির্মাতারা জানাচ্ছেন, গল্পটি ভিন্নধর্মী ও আবেগঘন; একদিকে দেখা যাবে বাবা-মেয়ের সংবেদনশীল সম্পর্ক, অন্যদিকে এক দম্পতির কষ্টসাধ্য বাস্তবতা—এই দুইটি সমান্তরাল কাহিনি একসঙ্গে শুঁট করা হবে।
ছবির একটি বড় অংশ পাহাড়ি পরিবেশে শুট হবে, যেখানে নৈসর্গিক প্রেক্ষাপটটি গল্পের আবেগকে বাড়াবে। বাংলা সংস্কৃতি ও সাহিত্যের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধার কথা তুলে ধরে অনুপম খের বলেছেন, ‘‘সিনেমা ও পরিচালনার অনেক শিক্ষা আমি এই বাংলা থেকেই পেয়েছি, তাই এখানকার শিল্পকে আমি সমৃদ্ধ করতে কাজ করে যেতে চাই।’’
প্রযোজনা সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে ছবির আনুষ্ঠানিক শুটিং শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে বড় পর্দায় মুক্তির লক্ষ্য রাখা হয়েছে।






