রাজধানীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে কমাতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সমন্বিতভাবে বিভিন্ন স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিচ্ছে—এ কথা সংসদে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মন্ত্রী আজ মঙ্গলবার সংসদে স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান এবং চলমান কাজগুলোর বিবরণ তুলে ধরেন।
মন্ত্রী বলেন, ঢাকার জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ১০৮টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ হটস্পট চিহ্নিত করেছে এবং এসব স্থানে স্থায়ী সমাধানের জন্য কাজ চলছে। তদুপরি ১০টি জোনে মোট ২১টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) গঠন করা হয়েছে; এসব দল নিয়মিত পিট, কেচ-পিট, ড্রেনেজ লাইন ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকায় পরিষ্কারের কাজ করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনে সহায়তা করছে। মন্ত্রী জানান, এসব উদ্যোগের ফলে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দ্রুত কমেছে।
অবকাঠামোগত কাজের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, গত অর্থবছরে ডিএনসিসি একশত দশ কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তা ও নর্দমা নির্মাণ করেছে এবং আগামী অর্থবছরে আরও ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও জানান, খাল দখল রোধ ও সীমানা নির্ধারণের জন্য ১,১৮১টি পিলার স্থাপন করা হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) বাস্তবতা তুলে ধরে মন্ত্রী বললেন, বর্তমানে কমলাপুর টিটিপাড়া, ধোলাইখাল ও হাতিরঝিল—এই তিনটি আউটলেটের মাধ্যমে প্রায় ১০৯.২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করা হয়, যা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। এই ঘাটতি দূর করার লক্ষ্যে দ্রুত আরও দুইটি আউটলেট নির্মাণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সদরঘাট পর্যন্ত একটি বৃহৎ নর্দমা নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, নিউমার্কেট, গ্রিন রোড ও শান্তিনগরসহ ৩৩টি প্রধান জলাবদ্ধ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে নিয়মিত নর্দমা পরিষ্কার ও পাম্প স্থাপনের কাজ চলছে। একই সঙ্গে সরকারি তহবিল থেকে কালুনগর, শ্যামপুর, জিরানী ও মান্ডা খালের সংস্কার কাজ অব্যাহত রয়েছে।
একই অধিবেশনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, প্রবাসীদের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আইটি-নির্ভর বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন প্রথমবারের মতো আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার আওতায় ভোটার নিবন্ধন পদ্ধতি চালু করেছে বলে তিনি জানান এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এই সুবিধা বজায় রাখার কথা নিশ্চিত করেন। মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, প্রবাসী ভোটারদের সর্বোচ্চ সংখ্যাকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার জন্য কমিশন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
আজকের সংসদ অধিবেশন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে শুরু হয়; সকাল ১১টা ৪ মিনিটে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু করা হয়।






