মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাস্টবিনের পাশ থেকে জীবিত অবস্থায় এক নবজাতক কন্যা শিশু উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত আনুমানিক একটায় ঘটনাটি ঘটে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক আয়া ডাস্টবিনের কাছে শিশুর কাঁদার শব্দ শুনে বিষয়টি কর্তব্যরত নার্সদের জানালে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ময়লার স্তূপেরکن্ঠে ঢাকা অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারকালে শিশুটির মাথায় আঘাতের চিহ্ন ও মুখে পোকামাকড় ও মশার কামড়ের দাগ দেখা যায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশুটি সম্ভবত সদ্য ভূমিষ্ঠ হয়েছে—তার নাভি-নাল কাটা ছিল না। অনেকেই ধারণা করছেন আশপাশের কোনো ক্লিনিক বা এলাকার কোনো স্থানে থেকে শিশুটিকে এখানে ফেলে দেওয়া হতে পারে। উদ্ধারকালে শিশুটি ক্রন্দন করছিল এবং চিহ্নিত হয়েছিল যে সে ক্ষুধায় কাতর।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. নুসরাত ফারজানা খান বলেছিলেন, উদ্ধার করার সঙ্গে সঙ্গেই নবজাতককে হাসপাতালে ভর্তি করে জরুরি চিকিৎসা দেয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে শিশুটির অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসা দলের প্রাথমিক ধারণা।
খবর পেয়ে রাতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফসা নাদিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তিনি বলেন যে তিনি একটি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক মনে করেন এবং শিশুটির সুরক্ষা ও চিকিৎসার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি কর্মকাণ্ড গ্রহণ করবে বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় স্থানীয় মানুষদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই দ্রুত দোষীদের খুঁজে এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অপরদিকে শিশু দত্তক নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে হাসপাতালে যোগাযোগ করাসহ কয়েকজনের মনোযোগও দেখা গেছে। কর্তৃপক্ষ ঘটনার স্থিতি ও তদন্তের অগ্রগতি ফের জানাবে।






