গোলযোগপূর্ণ মিটার রিডিং আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং—দুই দিক থেকেই কোটালীপাড়া উপজেলার প্রায় ৭৩ হাজার পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক একযোগে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। মোবাইল ব্যাংিং বিকাশে সময়মতো বিল দিলে সত্ত্বেও কাগজে থাকা বিলের রিডিং ও টাকা অস্বাভাবিকভাবে বেশি দেখিয়ে অনেক গ্রাহক বিভ্রান্ত ও ক্ষুব্ধ বলে অভিযোগ করেছেন। জুন মাসের বিল পেয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রাহকরা এসব অভিযোগ নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ছুটছেন।
গ্রাহকদের অভিযোগ, অনেকের বিলে প্রকৃত ব্যবহারের চাইতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ইউনিট ধরা হয়েছে। বকেয়া আদায়ের নামে অনিয়ম এবং নগদ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে উঠেছে—যা এলাকায় উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
কোটালীপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দুটি সাবস্টেশন ও ১০টি ফিডারের আওতায় প্রায় ৭৩ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সেবা পান। তবে জুন মাসে অধিকাংশ গ্রাহকের বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকের দাবি, গত মাসের তুলনায় দুই থেকে চার গুণ পর্যন্ত বেশি বিল এসেছে। এছাড়াও বিলের কাগজে উল্লেখিত মিটার রিডিংয়ের সঙ্গে বাস্তবে মিটারের রিডিং মেলছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাগান উত্তরপাড়ার বাসিন্দা দিলিপ বাড়ৈ জানান, ১২ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ২৯০ ইউনিটের জন্য বিল হয়েছে ২ হাজার ২২০ টাকা; পরের মাসে ৫৫০ ইউনিটের বিল আসে ৫ হাজার ১৮১ টাকা; আর ১৬ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ৮৮৫ ইউনিটের জন্য বিল এসেছে ১২ হাজার ১৫৯ টাকা। তিনি বললেন, ‘মিটারে কোনো সমস্যা নেই বলে মনে হচ্ছে, তবু মাত্র দুই মাসে বিল বাড়লো প্রায় ১০ হাজার টাকা। লোডশেডিংয়ের কারণে ঠিকমত বিদ্যুৎ পাচ্ছি না, অথচ অস্বাভাবিক বিল এসে মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়ছে।’
কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈ জানান, মে-জুন বিলের নথিতে ১০ জুন পর্যন্ত রিডিং দেখানো ছিল ৬ হাজার ৭৯৫ ইউনিট, অথচ ২৪ জুন পেয়ে তিনি মিটারে নিজে দেখেন রিডিং ৬ হাজার ৭৫৫ ইউনিট। অর্থাৎ বিলের কাগজে বর্তমান অবস্থার চাইতেও বেশি ইউনিট দেখানো হয়েছে। অভিযোগ জানালে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস অভিযোগ নিতে বলেছে, বলে তাঁরা জানান।
কোটালীপাড়া পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মফিজুল ইসলাম বলেন, জুন মাসের বিল নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে। মিটার রিডিংয়ের कुछ অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। লোকবল সংকট থাকার কারণে কিছু ক্ষেত্রে মিটারের সামনে গিয়ে পাঠ না নিয়ে অনুমাননির্ভর রিডিং করা হয়ে থাকতে পারে।
লোডশেডিং নিয়ে তিনি জানান, কোটালীপাড়ায় নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রায় ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হলেও ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি) থেকে বর্তমানে মাত্র ৮ থেকে ১২ মেগাওয়াট পাচ্ছে—ফলে চাহিদা পূরণ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা এখন দ্রুত তদন্ত, সঠিক মিটার রিডিং এবং স্বচ্ছ বিলিং দাবি করছেন। গ্রাহকেরা বলেন, সমস্যা যাচাই করে জরুরিভিত্তিতে মিটার পরীক্ষা ও পুনরায় বিল নির্ধারণ না হলে তাদের ওপর আর্থিক এবং দৈনন্দিন জীবনের কষ্ট অব্যাহত থাকবে।






