জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, বর্তমান সরকার স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পথে একইভাবে এগোচ্ছে। দেশে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, দমন‑পীড়ন এবং বৈষম্য আরও তীব্র রূপ ধারন করেছে; এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন অনিবার্য বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি‑২০২৬’ পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব মন্তব্য করেন তিনি।
একটি আন্তর্জাতিক থিংক‑ট্যাংকের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জিএম কাদের বলেন, ভোটভিত্তিক সরকার স্থিতিশীলতার গ্যারান্টি নয়। তিনি বলেন, জনমতের ওপর ভর করে সরকার গঠিত হলেও সেটা দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে না; রাজনৈতিক দলগুলোকে একসূত্রে না পুঞ্জীভূত করলে এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে প্রাধান্য না দিলেই পরিস্থিতি সংকটময় হয়ে উঠবে।
সরকারের নীতিমালা ও কার্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, গত জুলাই মাসে দেখা যায় যে বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের যে চেতনা ছিল, তার প্রতিফলন আজকের রাষ্ট্র পরিচালনায় দেখা যায় না। বরং একই নামধারায় নতুন করে বৈষম্য, দমন‑পীড়ন ও ভিন্নমতকে দমন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক ভিন্নমত পোষণকারীদের রাস্তায় হেনস্তা, হাটে‑বাজারে বাধা, এবং আইন করে কোনো দলকে নিষিদ্ধ করার প্রবণতা ফ্যাসিবাদী মনোভাবের প্রকাশ। শুধুমাত্র একটি দলের নিষেধাজ্ঞায় দেশ স্থিতিশীল হবে না—বরং রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই সময়ের দাবি।
জিএম কাদের বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দার ফলে সাধারণ মানুষ কষ্টে আছেন এবং সরকারের এ দায় এড়ানো উচিত নয়। পাশাপাশি তিনি বললেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম ব্যাপক হতাশায় ভুগছে; কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত না হওয়ার ফলে তারা মাদক ও অপরাধমুখী কর্মকাণ্ডের দিকে ঝুঁকছে।
তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়ীকরণ করে কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা দেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য উদ্বেগজনক।
শেষে জিএম কাদের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি, প্রতিষ্ঠানসমূহের নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে—তাই না হলে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বিপদগ্রস্ত হবে।






