কক্সবাজারে গভীর রাতে ও ভোরের মধ্যে পৃথক চারটি পাহাড়ধসে মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮ জন এবং কক্সবাজার শহরে ১ জন রয়েছেন। ঘটনাগুলোতে আরও অনেকে আহত হয়েছেন ও কিছু মানুষ উদ্ধার করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় প্রশাসন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং স্বেচ্ছাসেবীরা রাত ১টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে এবং গুরুতর আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানিয়েছেন, তিনটি পাহাড়ধস প্রায় একই সময়ে ঘটেছিল; এখন পর্যন্ত ওই তিনটি ঘটনায় ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উখিয়ার ১৫ নম্বর জামতলী ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে একটি পাহাড় ধসে মাটির নিচে চাপা পড়ে একটি পরিবারের পাঁচ সদস্য। স্থানীয়রা দুইজনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও ফায়ার সার্ভিস তিনজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) ও তাদের পুত্র মোহাম্মদ আনাস (৪)।
প্রায় পৌনে ২টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ৭ নম্বর ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড়ধসে একরাম (৭) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। স্থানীয় রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।
রাত প্রায় ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে আরেকটি ভয়াবহ ধস ঘটে, যেখানে একই পরিবারের চারজন মারা যান। নিহতরা হলেন উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)। ওই ঘটনায় আর একজন গুরুতর আহত অবস্থায় রয়েছেন।
ভোররাত ৪টার দিকে কক্সবাজার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে আলী আকবর (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা এক পরিবারের তিনজনকে মাটির নিচে থেকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে ডিউটি চিকিৎসক আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন; বাকি দুইজন আহত রয়েছেন।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত চলবে এবং পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া দফতর এবং স্থানীয় প্রশাসন আগামী কয়েক দিন তো থেমে থেমে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে। সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। شمال বঙ্গোপসাগরে থাকা মাছধরার নৌকা ও ট্রলারে উপকূলের কাছাকাছি চলাচল সম্পর্কে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার জানান, টানা বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়েছে; তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের মাইক্রোফোনের মাধ্যমে সতর্ক করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি সবাইকে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান।
প্রশাসন, উদ্ধারকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকরা সতর্কতা ও উদ্ধারকাজ জারি রেখেছেন। স্থানীয়রা ও আশপাশের মানুষদের অতিভারি বৃষ্টিতে পাহাড়ি স্থানে না থাকার, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে দূরে সরে যেতে এবং নিরাপদ নির্দেশনা মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে।






