কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে একটি মাদ্রাসা ও হিফজ কেন্দ্রের ওপর পাহাড় ধসে আটজন শিক্ষার্থীর প্রাণহানি এবং চট্টগ্রামে পৃথক দুটি ধসে দুই শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। এই ঘটনায় অতিরিক্ত ১০ জনের মৃত্যু যোগ হওয়ায় গত দুই দিনের পাহাড় ধসের মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২১ জন।
দুর্ঘটনাটি বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর প্রায় ২টার দিকে উখিয়া ক্যাম্প-৫ এর ব্লক এ-৩ এলাকায় ঘটে। টানা ভারী বৃষ্টির মধ্যে পাহাড়ের একটি বড় অংশ হঠাৎ ধসে মাদ্রাসার ওপর পড়ে গেলে তখনই ঘটনাস্থলে ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা হাত দিয়ে মাটি সরিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে উদ্ধারকাজ জোরদার করে। প্রাথমিকভাবে কমপক্ষে ১০ জনকে মাটির নিচ থেকে নিরাপদে বের করা হলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও শিক্ষার্থী আটকে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিহত আটজনের মধ্যে এখন পর্যন্ত চারজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন—রাশিদা বেগম (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২) ও উমাইসা বিবি (১৩)। উম্মে নেজাতুল ও উম্মে সালমা সহোদর বোন; তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৩ এর বাসিন্দা। অন্য দু’জন ক্যাম্প-৫ এর বাসিন্দা। ক্যাম্প প্রশাসন জানিয়েছে বাকিদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, দুর্ঘটনার সময় মাদ্রাসায় কয়েক ডজন শিশু কোরআন শিক্ষা নিচ্ছিল। কারো মতে সেখানে ৩০–৫০ জন, আবার কিছু সূত্রে দাবি করা হচ্ছে ৮০–১০০ জন পর্যন্ত শিশু উপস্থিত ছিল। সঠিক আক্রান্তসংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পাহাড় ধসের সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই দৌড়ে বাইরে বের হতে পেরলেও অনেকে কাদা ও মাটির নিচে চাপা পড়ে গিয়েছিলেন।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, এ পর্যন্ত তিন শিশুর মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত হয়েছে; ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি তৎপরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) বা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা এখনও হতাহতদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেনি।
চট্টগ্রামে একই দিন ভোর থেকে পড়ে চলা ভারী বর্ষণে পৃথক দুটি পাহাড় ধসে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয় এবং অন্তত দু’জন আহত হন। বুধবার বেলা প্রায় ১১টার দিকে নগরীর পাঁচলাইশের মুক্তিযোদ্ধা পাহাড়ের একাংশ ধসে নিচে থাকা একটি ঘরের ওপর চাপা পড়ে ১০ বছর বয়সী শিশু সামিয়া নিহত হন; ঘটনাস্থলে লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে এবং পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় নিহত ও আহতদের উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর ৬ নম্বর সমাজে একটি কাঁচা ঘরের ওপর ধস নামে, তাতে ১০ মাস বয়সী আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল।
পূর্বের দুই দিনে জেলায় পাহাড় ধসে মোট ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ১৫ হাজার ৮১৩ জন রোহিঙ্গা প্রভাবিত হয়েছে; এর মধ্যে আটজন রোহিঙ্গা মারা গেছেন। এই সাম্প্রতিক হামলায় মৃতের সংখ্যা যোগ হওয়ায় জেলায় গত দুই দিনে মোট মৃতের সংখ্যা এখন ২১।
আশেপাশের প্রশাসন, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও ত্রাণসংস্থাগুলো উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। চলমান ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের ঝুঁকি বিবেচনায় আবহাওয়া সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তাত্ক্ষণিক সহায়তা এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের খোঁজে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।






