বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ দেশের বিভিন্ন জেলায় তীব্রভাবে অবনতি হওয়া বন্যা পরিস্থিতির কারণে উপদ্রুত মানুষদের দ্রুত উদ্ধার, জীবন-জানমালের নিরাপত্তা ও সুষম ত্রাণ নিশ্চিত করতে সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনাগুলো প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষ করে চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, সিলেট, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জসহ অন্যান্য বন্যা प्रभावित জেলার নাজুক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের কিছু এলাকায় গত কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারত থেকে ঢলে আসা পাহাড়ি পানির কারণে বড় ধরনের প্লাবন তৈরি হয়েছে। ছাত্রদল সুদীর্ঘকাল ধরে যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে এসেছে, সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও নদী তীরবর্তী ও পাহাড়ি এলাকায় থাকা বন্যাদুর্গত সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াবে। জেলার, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সব ইউনিটকে দ্রুত মাঠে নামে কার্যকর ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনাগুলো সংক্ষেপে নিম্নরূপ—
১. বন্যাকবলিত সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত স্থানে দ্রুত সরিয়ে আনার কাজে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে গবাদিপশুদেরও নিরাপদ স্থানে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
২. প্রতিটি ইউনিটে দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক রেসকিউ টিম প্রস্তুত রাখতে হবে। টিমগুলোর মানচিত্র, সরঞ্জাম এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সজাগ রাখতে হবে।
৩. স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। শুকনো ও রান্না করা খাবার, খাবার স্যালাইন, ফিটকিরি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও প্রাথমিক জীবাণুনাশকসহ প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধ প্রস্তুত রাখতে হবে।
৪. যারা বাড়ি ত্যাগ করে আশ্রয়কেন্দ্রে যাবেন তাদের ঘরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে; যাতে ফেরার সময় তাদের সম্পদ সুরক্ষিত থাকে।
৫. বন্যার কারণে পড়াশোনা বন্ধ হওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপকরণ ও তাত্ক্ষণিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অস্থায়ী পাঠশালার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করতে হবে।
৬. সকল কার্যক্রমে নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং বিশেষ যতœ নিয়ে তাদের সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যাবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৭. কেন্দ্রীয় সংসদ পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দিতে মেডিকেল টিম গঠন করা হবে; ইউনিটভিত্তিক চিকিৎসা সহায়তা ও ওষুধ বিতরণে সমন্বয় করতে হবে।
৮. বন্যা পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ও বৈকল্পিক অবকাঠামো দ্রুত পুনর্নির্মাণে ও পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কাঠামোগত কাজগুলোতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে।
৯. বন্যার পরে টাইফয়েড, ডায়রিয়া, আমাশয়সহ জলের পরিবেশনীয় রোগের ঝুঁকি থাকে—এজন্য ইউনিটভিত্তিক মেডিকেল টিম গঠন করে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম, টিকাদান ও ওষুধ-বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে।
১০. সমন্বয়ের দায়িত্ব নেবেন কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। প্রত্যেক ইউনিটকে তাদের করা কার্যক্রম ও বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর সম্পূর্ণ তথ্য জেলা ও কেন্দ্রীয় দপ্তরে দ্রুত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে নেতাকর্মীদের মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত সময়ে সুষম ও যুগোপযোগী সহায়তা প্রদান, আর্তমানবিকদের পাশে দাঁড়ানো এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার জোর আহ্বান জানানো হয়েছে। ছাত্রদল emphasises যে খোলা হৃদয় ও সংগঠিত প্রচেষ্টায়ই বিপর্যস্ত মানুষের কষ্ট লাঘব করা সম্ভব হবে।






