যুক্তরাষ্ট্রে চলমান মেজর লিগ ক্রিকেটে (এমএলসি) সাকিব আল হাসান ব্যাটে-বলে ফেরেন নিজের পুরনো ছন্দে। তবে তার ব্যক্তিগত সাফল্যের দিনে এমআই নিউইয়র্ককে হারিয়েছে ওয়াশিংটন ফ্রিডম। এই ম্যাচের পরও নিউইয়র্ক লিগ পর্বের ১০ ম্যাচে ৫ জয় ও ৫ হার নিয়ে প্লে-অফে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে।
এদিন এসেছেন ইনিংসের শেষপর্যায়ে—সাকিব ১৭তম ওভারে ক্রিজে উঠে প্রথমেই রাচিন রবীন্দ্রকে রিভার্স সুইপ করে বাউন্ডারি টেনে নিজের আগ্রাসী মনোভাব দেখালেন। মাত্র ১৩ বল খেলে দুই চার ও এক ছক্কায় তিনি করেছিলেন কার্যকরী ১৮ রান।
ব্যাটিং শেষে বল করতে নেমে সাকিব শুরুতেই সাফল্য পান। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসে দ্বিতীয় বলেই অজি ব্যাটার মিচেল ওয়েনকে নিজ বোলিংয়ে ফেরান—ওয়েন উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন। সব মিলিয়ে ৩ ওভার বোলিং করে সাকিব মাত্র ২৪ রান খরচে একটি উইকেট নিয়েছেন।
এ ম্যাচে এমআই নিউইয়র্ক ১৮৮ রানের লক্ষ্য দাঁড় করিয়ে দেয়। তা তাড়া করতে নামা ওয়াশিংটন রাখে শুরুতে কিছুটা চাপে—দুটি উইকেট দ্রুত হারায় তারা। কিন্তু রাচিন রবীন্দ্র ও আন্দ্রেস গুস দুর্দান্ত কম্বিনেশনে দলকে ঘুরে দাঁড় করান। তৃতীয় উইকেটে এই জুটি ৬৮ বলেই ১১৬ রানের বিশাল অংশীদারি গঠন করে ম্যাচের রূপ বদলে দেয়।
রাচিন মাত্র ৩০ বল খেলে ঝোড়ো ৬০ রান করেন, আর আন্দ্রেস গুস ৫৪ বল খেলে ৪টি চার ও ৮টি ছক্কায় বিধ্বংসী ৯৬ রানের ইনিংস খেলেন। পরে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এসে ৫ বল খেলে অপরাজিত ১২ রানে ম্যাচটি শেষ করে দেন—ওয়াশিংটন ৯ বল বাকি রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়।
এই আসরে এটি ছিল সাকিবের তৃতীয় ম্যাচ; আগের দুইটি ম্যাচে সিয়াটল ওর্কাস ও সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্নসের বিপক্ষে তার ব্যাট থেকে এসেছিল যথাক্রমে ১৫ ও ১ রান। তিন ম্যাচের মধ্যে এ পর্যন্ত কেবল সিয়াটলের বিরুদ্ধে ম্যাচটিই জয় ছিল নিউইয়র্কের।
সামগ্রিকভাবে সাকিবের ব্যাটিং ও বোলিং—দুই দিকেই অবদান থাকলেও টিম হিসেবে বড় পারফরম্যান্সের দরকার ছিল; তবু লিগ পর্বে সমান জয়-হার নিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করে এমআই নিউইয়র্ক পারফরম্যান্সে ভবিষ্যতের আশা রেখে গেলো।






