ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমা প্রায় তিন দশক ধরে দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেছেন। ১৯৯৮ সালে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রুপালি পর্দায় অভিষেকের পর থেকেই তিনি রোমান্টিক নায়িকার ইমেজে দর্শকের মন জয় করেছেন এবং এরপর থেকে বহু ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় ছবিতে কাজ করেছেন। অধিকাংশ সময়ই দর্শক তাকে ‘মিষ্টি মেয়ের’ চরিত্রে সমধিক স্মরণ করেন।
দীর্ঘ ২৮ বছরের চলচ্চিত্রজীবনে বারবার ইতিবাচক চরিত্রে দেখা গেলেও এবার সেই চেনা ইমেজটা ভাঙার মনস্থ করেছেন পূর্ণিমা। সম্প্রতি জন্মদিনে চ্যানেল আইয়ের এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি জানান যে পরবর্তী সময়ে তিনি প্রথমবারের মতো খলনায়িকার চরিত্রে অভিনয় করার প্রবল ইচ্ছা রাখেন। তিনি বলেন, সবসময় নানামুখী চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পেয়েও কোনোদিন তাকে খলচরিত্রে দেখা যায়নি, তাই ভবিষ্যতে এমন এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষ চরিত্রে কাজ করতে চান যা দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলবে।
পূর্ণিমা আরও বলেন, তিনি এমন একটি চরিত্র চাচ্ছেন যা মানুষের মাঝে তীব্র ঘৃণা সৃষ্টি করবে — অর্থাৎ খলনায়িকার আসল প্রভাব দেখাতে পারবে। নিজের রূপ-চেহারার কোমলতাকেই তিনি অনেকে খলচরিত্রে না নেওয়ার একটি কারণ হিসেবে মনে করেন। ‘‘আমার চেহারার নরম ছাপের কারণে হয়তো নির্মাতারা আমাকে নেতিবাচক চরিত্রে কল্পনা করেননি,’’ বলেন অভিনেত্রী। আর তাই এবার সরাসরি সেই ধারণা ভেঙে এমন ভিন্ন রঙে নিজেকে পরখ করতে চান তিনি।
কয়েক বছর ধরেই কাজের তালিকায় নিয়মিত নয় এই অভিনেত্রী। মাঝে মধ্যে টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সঞ্চালক বা রিয়েলিটি শোয়ের বিচারকের ভূমিকায় উপস্থিত হলেও মূলত তিনি বড় পর্দা ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কম কাজ করেছেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের রোজার ঈদে ছটকু আহমেদ পরিচালিত ‘আহারে জীবন’ সিনেমায় তাকে দেখা গেছে। তার আগের বছর ২০২৩ সালে জনপ্রিয় নির্মাতা কাজল আরেফিন অমি’র ‘হোটেল রিলাক্স’ ওয়েব সিরিজে তিনি ওটিটি দর্শকদের কাছে ফিরেছিলেন। তারপর থেকে বড় পর্দা কিংবা ওটিটিতে নতুন কোন প্রকল্পে তার দেখা মেলেনি।
পূর্ণিমা জানান, ক্যারিয়ারের এই সময়টায় যদি কেউ ঠিকঠাক একটি জাঁদরেল খলচরিত্র অফার করেন, তাহলে সেটি তিনি অত্যন্ত উপভোগ করে করবেন এবং সেটা তাকে অভিনেত্রী হিসেবে নতুনভাবে আবিষ্কার করাতে সাহায্য করবে। এমন একটি বিপরীতধর্মী চরিত্রে কাজ করলে দর্শকেরও তার প্রতি ভাবনাটা বদলে যেতে পারে—এটাই তার প্রত্যাশা।






