সরকার ২০২৭ সালের হজের অর্থ ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) নতুন এই হজ প্যাকেজের তথ্য প্রকাশ করেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় এই বছর হজের জন্য সর্বনিম্ন খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। পাশাপাশি রয়েছে আরও উন্নত প্যাকেজ, যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা। অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করতে ইচ্ছুকদের জন্য সাধারণ প্যাকেজের দাম রাখা হয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা।
প্যাকেজসমূহের বিস্তারিত তথ্য জানাতে গিয়ে মন্ত্রী বলেছেন, সরকারি হজ প্যাকেজ-১ এর আওতায় হজযাত্রীরা মক্কায় পবিত্র হারাম শরিফের কাছাকাছি, অর্থাৎ ১০০০ থেকে ১৪০০ মিটার মধ্যে থাকবেন এবং মদিনায় থাকবেন মারকাজিয়া এলাকায়। এই প্যাকেজে মিনায় জোন-২ এলাকায় তাঁবু থাকার ব্যবস্থা থাকবে এবং মিনায় আরাফায় সার্ভিস প্যাকেজ-৩ অনুযায়ী খাবার এবং মোয়াল্লেম সেবা প্রদান করা হবে। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে অবস্থানকাল সাধারণত ৩৫ থেকে ৪০ দিন হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে কক্ষের মানোন্নয়ন বা স্বল্পমেয়াদি প্যাকেজ গ্রহণের সুযোগও থাকছে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা, যেখানে হজযাত্রীরা মক্কায় হারাম শরিফ থেকে ২ থেকে ৩ কিলোমিটার দূরত্বে থাকবেন এবং মদিনায় মসজিদে নববীর কাছাকাছি, অর্থাৎ ৮০০ মিটার। হোটেল থেকে দূরত্ব ২ কিলোমিটারের বেশি হলে সৌদি সরকারের নিয়ম অনুযায়ী সালাওয়াত বাসের সুবিধা দেয়া হবে এবং মিনায় জোন-৫ এ তাঁবু বরাদ্দ থাকবে।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বেসরকারি প্যাকেজের আবাসন মক্কায় হারাম শরিফ থেকে সর্বোচ্চ ৩ কিলোমিটার এবং মদিনায় মসজিদে নববী থেকে ১ কিলোমিটার দূরত্বে থাকতে হবে। প্রতিটি কক্ষে সর্বোচ্চ ছয়জন থাকতে পারবে এবং বাসের ব্যবস্থাও বাধ্যতামূলক। তালিকাভুক্ত এজেন্সিগুলো সরকারি সাধারণ প্যাকেজের চেয়ে কম সেবা দিয়ে কোনো প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারবে না, তবে তারা পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত তিনটি প্যাকেজ চালাতে পারবে।
ধর্মমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সাশ্রয়ী ও মানবিক হজ ব্যবস্থা চালু করতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনায় এবার হজ ফ্লাইটের বিমানভাড়া গত বছরের তুলনায় ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে এ বছর বিমানভাড়া নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, যা ২০২৫ সালে ছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা এবং ২০২৩ সালে ছিল প্রায় দেড় লাখ টাকা। এই সব পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের লাখো হজ গমনেচ্ছুকের জন্য সহজ ও স্বস্তিদায়ক পরিষেবা দেয়ার লক্ষ্য রয়েছে।






