নতুন নাট্যদল থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানি তাদের প্রথম প্রযোজনা নিয়ে মঞ্চে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। দলের উদ্বোধনী নাটক হিসেবে মঞ্চায়িত হবে বাংলার প্রথম নারী কবি চন্দ্রাবতী রচিত মৈমনসিংহ গীতিকার ঐতিহ্যবাহী পালা ‘মলুয়া’।
নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হবে আগামী ২৩ ও ২৪ জুলাই সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার মিলনায়তনে। নাটকের ভাষ্য-বয়ান ও সার্বিক নির্দেশনার দায়িত্বে আছেন অনুভবী তরুণ নির্দেশক সাইফুল জার্নাল।
‘মলুয়া’ প্রেম, আত্মমর্যাদা, সামাজিক বৈষম্য ও নারীর অদম্য শক্তিকে ঘিরে এক কালজয়ী ও আবেগঘন আখ্যান। থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানি এটিকে শুরুর শ্বাসে নতুন সময়েরভাষা ও আধুনিক নাট্যপ্রযোজনার ছাপ দিয়ে পুনরায় দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছে। নাটকটি অতীত ও বর্তমানের সংলাপে問い তোলে — সমাজ বদলে গেলেও নারীর প্রতি বৈষম্য ও ক্ষমতার অপব্যবহার কি প্রকৃতপক্ষে বদলেছে?
সম্পূর্ণভাবে সংগীতনির্ভর এই পালা নাটকটির পারফরম্যান্স ডিজাইন করা হয়েছে গানের একটি দলকে মাথায় রেখে; শিল্পীরা কেবল গাইবেন না, অভিনয়েও সমানভাবে অংশ নেবেন। مرکزی দলের নাম ‘সর্বনাম’। প্রযোজনাটিতে বিভিন্ন নাট্যদলের অভিনয়শিল্পী, চিত্রশিল্পী ও নাট্যপরামর্শকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে কাজ করা হয়েছে।
নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন হাসনাত রিপন, নুসরাত ইরা, সাইদুর শাহীন, শাহরিয়ার সজীব, প্রিয়ম মজুমদার, তাহাদিল আহমেদ, হুমায়রা স্নিগ্ধা, গোপি দেবনাথ, ফরহাদ শামীম, নানজীবা শৈলী, পি টি ফজল, মারিয়া ইয়াসমিন, ধ্রুব, সানজিদা চৌধুরী অরিন এবং উম্মে প্রেমা প্রমুখ।
নির্দেশক সাইফুল জার্নাল বলেন, ‘‘বর্তমানে বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিউজিক পরিবেশনার আদি রীতি অনেকাংশে হারিয়ে যাচ্ছে। পালা, পুঁথি বা গাজীর গানের মতো জিনিসগুলো একসময় বাংলার দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল; কিন্তু পরিবেশ ও পরিস্থিতির পরিবর্তনে সেগুলোর প্রচলন সংকুচিত হয়ে এসেছে। যে অংশটা টিকে আছে, সেটাও অনেকক্ষেত্রেই তার মূল স্বরূপ হারিয়েছে।’’
তিনি আরও জানান, এই প্রযোজনার লক্ষ্য ঐতিহ্য ধরে রেখে তা আধুনিক মঞ্চে নতুনভাবে উপস্থাপন করা — যাতে লোকজ সুর ও আঙ্গিকের মৌলিক স্বাদ বজায় থাকে, কিন্তু দৃশ্যরীতি ও নির্মাণে সমসাময়িক দর্শকও সহজে সংবেদনশীল হতে পারেন।
থিয়েট্রিক্যাল কোম্পানি তাদের প্রথম প্রযোজনা দিয়ে শুধু একটি নাটক দেখাতে চাইছে না; তারা বাংলার লোকসঙ্গীত-ঐতিহ্যের এক পুনরুজ্জীবনের আহ্বানও জানাচ্ছে। দর্শক ও সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে ‘মলুয়া’কে এক বার মঞ্চে দেখার অনুরোধ করেছেন নির্মাতারা।






