ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের বাড়তে থাকা ব্যয়ে গুরুতর আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, বর্তমান সংঘাতের মোট খরচ—ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য ব্যয়সহ—৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইতোমধ্যে দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন (৩ হাজার ৭৫০ কোটি) ডলারে।
ওয়াশিংটনে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের একটি শুনানিতে হেগসেথ সতর্ক করে বলেন, এই অতিরিক্ত ব্যয় পেন্টাগনের বার্ষিক বাজেটে অসহনীয় চাপ সৃষ্টি করেছে। তিনি জানান, জরুরি ভিত্তিতে বাড়তি তহবিল না পেলে নিয়মিত ট্রেনিং কার্যক্রম সংকুচিত হতে পারে এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনাগুলো পিছিয়ে যাওয়া বা বাতিল হবার ঝুঁকি আছে।
ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে কংগ্রেসের কাছে প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত তহবিল চেয়েছে, যার একটি বড় অংশই ইরান-সংঘাত সম্পর্কে খরচ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। শুরুর কয়েক দিনে ব্যয়ের তাড়া ছিল খুবই দ্রুত—রয়টার্সের সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ছয় দিনে খরচ হয়েছিল প্রায় ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। তবু পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এই বিশাল ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনও কাউকে দেওয়া হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় পক্ষই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং প্রশাসনকে পর্যাপ্ত ও স্পষ্ট তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ তুলে সংসদে কঠোর প্রশ্ন তুলেছেন। শুনানিতে সিনেটর প্যাটি মারে ও কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড প্রশাসনের অস্পষ্ট অবস্থান ও তথ্যাভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ভবিষ্যতে বিনিয়োগ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের ওপর এই সংকটের নেতিবাচক প্রভাবকে ঘনভাবে তুলে ধরেন এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ ব্যক্ত করেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বড় বাজেটের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া প্রয়োজনের তুলনায় ‘‘দশ গুণ বেশি শক্তিশালী’’ হতে পারে।
চলতি মাসের শুরুতে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর থেকে প্রতিদিনের হামলা-পাল্টা হামলায় এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত ৪৩০ জন আহত হয়েছেন। পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহত সেনাদের একটি বড় অংশ সুস্থ হয়ে পুনরায় কর্মস্থলে ফিরে গেছেন; তবু ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ এখন ওয়াশিংটনের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।
সামরিক খরচ বাড়তে থাকায় কংগ্রেস ও প্রশাসনের মধ্যে তহবিলের বিষয়ে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত গ্রহন ও স্বচ্ছতা নিয়ে চাপ বাড়ছে। পেন্টাগনকে স্পষ্ট হিসাব দেখাতে বলেছে আইনপ্রণেতারা, না হলে সামরিক প্রস্তুতি ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা পরিকল্পনার ওপর নেগেটিভ প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।






