সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের একটি অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও দেখা যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি প্রথম ছড়িয়ে পড়া শুরু করে ২০ জুলাই রাতে এবং পরের দিন থেকে সামাজিক প্ল্যাটফর্মগুলোতে দ্রুত সার্বজনীনতা পেয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় থাকা। বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হলে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে নিজেই একটি ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটির পরিপ্রেক্ষিত ব্যাখ্যা দেন গাজী নজরুল। পোস্টে তিনি দাবি করেন ওই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম।
নজরুল আরও জানান, তাদের পারিবারিকভাবে ১৭ জুন বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে এবং বিয়েতে তার প্রথম স্ত্রীসহ পরিবারের সবাই সম্মত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মাছুম বিল্লাহ ও তার মামা ওবায়দুল্লাহ পূর্বশক্রতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এই ষড়যন্ত্রের শিকার করেছি।’ একই সঙ্গে তিনি যারা এই ঘটনা নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আজিজুর রহমানও ঘটনার পর সরাসরি মন্তব্য করে বলেন, ভিডিওতে যে নারীকে দেখা যাচ্ছে তিনি এমপির দ্বিতীয় স্ত্রী। মাওলানা আজিজুর বলেন, ‘‘তার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে আমরা জানতে পেরেছি—পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। বয়সজনিত কারণে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। বিয়ের পর থেকে তারা পারিবারিকভাবে জীবনযাপন করে থাকেন।’’
তবে ভিডিও সংক্রান্ত আরও এক জটিলতা হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে মরিয়মের বায়োডাটায় তার বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ রাখার তথ্য। বায়োডাটায় দেখা গেছে ২২ জুন তারিখে গাজী নজরুল ইসলামের স্বাক্ষর রয়েছে এবং স্বাক্ষরের ওপরে সবুজ কালির হাতে লেখা ‘জোর সুপারিশ করছি’ বলা হয়েছে। এই তথ্যের ফলে বিয়ের তারিখ ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কিছু প্রশ্ন উঠেছে, কারণ নজরুল দাবি করেন বিয়ে পারিবারিকভাবে ১৭ জুনে হয়েছে।
বিঘ্ন ঘটে যাওয়া জায়গাটি থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ কীভাবে বাইরে এসেছে তা নিয়েও অনুসন্ধান চলছে। মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, ‘‘তারা যে স্থানে ছিলেন, সেখান থেকে সিসিক্যাম ফুটেজ কীভাবে বাইরে উঠে এসেছে—এই দিকটি আমরা খতিয়ে দেখছি।’’
ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও বিবৃতি দিয়েছে। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের দিকে দল নজর রাখছে। তিনি বলেন, ‘‘এ বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বিবৃতি, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর ও দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার বক্তব্য মিডিয়াতে এসেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো।’’
এ মুহূর্তে ঘটনার মূল সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং প্রতিটি দাবির প্রামাণিকতা যাচাই করার চেষ্টা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিয়ে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আরও তদন্তের সম্ভাব্যতা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় জনগণ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয় হল তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং এসব তথ্যের ভিত্তিতে সরকার ও দলীয় স্তরে কি ধরণের আইনগত বা সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।






