বহু আলোচনা ও প্রতীক্ষার পর অবশেষে আগামী ৫ আগস্ট যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’। এই ইতিহাসের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই জাদুঘরটির উদ্বোধন করবেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব দীপঙ্কর বিশ্বাস শনিবার গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সম্প্রতি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই উদ্বোধনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হলে তিনি ৫ আগস্ট সময় দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
১৯৭১ সালের ৫ আগস্ট সেই উত্তাল দিনটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিভোর ঘটনাবহুল দিন, যা ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটে। এই আন্দোলনের ফলে জনগণ গণভবন দখল করে নেয়, যা বাংলাদেশের গণজাগরণের অন্যতম পীঠস্থান। এখন সেই ঐতিহাসিক গণভবনকে একটি পূর্ণাঙ্গ জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়েছে, যেখানে লুকানো আছে সেই সময়ের নানা দুর্লভ আলোকচিত্র, ভিডিও ফুটেজ, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলিল-দস্তাবেজ এবং শহীদ ও আহতদের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত সামগ্রী। এ ছাড়াও, আন্দোলনের সময় ব্যবহার করা ব্যানার, প্ল্যাকার্ড এবং গত ১৭ বছরের শাসনামলের বিভিন্ন নিদর্শনও এই জাদুঘরে স্থান পেয়েছে।
যদিও এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারও এই জাদুঘর চালুর উদ্যোগ নেন, কিন্তু নানা প্রতিকূলতা ও অনিয়মের কারণে এটি দীর্ঘদিন স্থবির ছিল। তবে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুত এটি সম্পন্ন করে উদ্বোধনের উদ্যোগ নেয়। সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, এই জাদুঘরের মূল লক্ষ্য হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনা ও সংগ্রামের ইতিহাস ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরে, এটি সাধারণ মানুষের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। দর্শকদের সুবিধার্থে গাইডেড ট্যুর ব্যবস্থা ও অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের আধুনিক সেবা চালু করা হবে, যা স্মৃতি ও ইতিহাসের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করে তুলবে।






