রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদ সদস্যরা গোপন ব্যালটে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এটি ৩৫ বছর পরে প্রথমবারের মতো আবারও দেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
১৯৯১ সালের পর এটি প্রথমবারের মতো হয় যখন দেশের প্রেসিডেন্টের পদে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নয়, বরং সংসদ সদস্যদের গোপন ব্যালটে ভোট দেওয়ের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই ভোটাররা সংসদ সদস্য। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রক্রিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য একটি ইতিবাচক দিক, কারণ এটি নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করে তুলবে।
বিএনপি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। তিনি বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য রোববার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানিয়েছেন, দলীয়ভাবে তার নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং আগামী ১২ আগস্ট আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক, ঘোষণা করেন। এর আগে, বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেন।
ভোটের প্রক্রিয়া: সংসদে স্পিকার বা রিটার্নিং কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন। একটি নির্ধারিত পোলিং বুথে গোপন ব্যালটে সংসদ সদস্যরা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দান করবেন। ভোট শেষে ফলাফল দ্রুত গণনা করে প্রকাশ করা হবে। এছাড়া নির্বাচনী পরিবেশ সুন্দর ও সুশৃঙ্খল রাখতে ইতোমধ্যে নানা সংগঠন বিভিন্ন কমিটি গঠন করেছেন।
বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি: স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানকে মনোনীত করে। তবে তিনি পাকিস্তান কারাগারে থাকায় উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম অবস্থা দেখাশোনা করার দায়িত্ব নেন। এই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সরাসরি ভোটের মাধ্যমে হয়নি; বরং মুক্তিযুদ্ধের পরীক্ষামূলক ঘোষণা বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্রের ভিত্তিতে নিযুক্ত হয়েছিল।
স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রপতির নির্বাচনের পদ্ধতি পরিবর্তিত হয়েছে। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ পর্যন্ত সংসদীয় ব্যবস্থা চালু থাকাকালীন, মনোনয়ন ও ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু হয়, সেখানে শেখ মুজিব রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে সামরিক শাসন ও স্বৈরশাসনের সময় বিভিন্ন পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছে। সর্বশেষ, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
২০২৩ সালে মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। তবে ২০২৬ সালে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন। এর ফলে, সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশটির নতুন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আগামী ২০ আগস্টের এই নির্বাচন দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।






