বাংলাদেশের সংসদীয় সচিব মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, গণতন্ত্রের মূল সৌন্দর্য হলো নির্বাচনমূলক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কোনো নিয়ম রক্ষার প্রচেষ্টার জন্য নয়, এটি সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রের চর্চা। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনে বিএনপি ও তার জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র দাখিলের পর সাংবাদিকবৃন্দের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় BNP’র সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, সরকারের মন্ত্রীরা, সংসদের হুইপবৃন্দ এবং সংসদ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
চিফ হুইপ আরও জানিয়েছেন, আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি তাদের মনোনয়নপত্র দিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে এ মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যা আজ দাখিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং সমর্থক হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
চিফ হুইপ উল্লেখ করেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বিরোধী দল থেকে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে, এটি আমাদের স্বাগত জানাই।’ তিনি বলেন, এটি কোনো ‘নিয়ম রক্ষার নির্বাচন’ নয়; সংবিধান ও নির্বাচন আচরণের (আরপিও) অনুযায়ী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে চলছে।তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা আন্দোলনের পর, একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন মাধ্যমে গঠিত সংসদ দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে সচেষ্ট।
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে চিফ হুইপ জানান, সরকার ‘জুলাই সনদের’ প্রতিটি অক্ষর, দাড়ি, কমা ও সেমিকোলন যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, সংবিধান নতুন করে লেখার প্রয়োজন নেই; প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার হবে।
চিফ হুইপ বলেন, ‘আমরা যদি কিছু পরিবর্তন করি, সেটাই হবে সংস্কার। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী ও কার্যকরী সংবিধান নিশ্চিত করতে আমরা সবাই মতামত নিয়ে কাজ করতে চাই।’ তিনি আরো বলেন, সংবিধান সংস্কার কোনো ব্যক্তি বা দলবিরোধী নয়; বরং এটি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী, সুবিধাজনক ও টেকসই সাংবিধানিক কাঠামো নির্মাণের প্রচেষ্টা।






