রাজধানী ঢাকার প্রধান সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার একটি নতুন ও সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। এই নীতিমালায় থাকবে নির্দিষ্ট এলাকায় রিকশা চলাচলের নিয়ম, যানবাহনের কারিগরি মানের ব্যাখ্যা এবং চালকদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যমন্ত্রী ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সম্প্রতি ঢাকার প্রধান সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় যানজটের পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ব্রেকিং সিস্টেম ও অন্যান্য কারিগরি সক্ষমতা না থাকার কারণে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়ছে, যা নিয়ন্ত্রণের জন্য এই নীতিমালা অবিলম্বে প্রণয়ন করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, মৎস্য খাতে উন্নয়নের বিষয়ে জানানো হয়, কিশোরগঞ্জের কাটিয়াদীতে মৎস্য সপ্তাহের সফল উদ্বোধন হয়েছে এবং দেশের মৎস্য উৎপাদনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৪ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পদক দেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশের মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে আমরা একদশে অবস্থানে রয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, দেশের সবচেয়ে বৃহৎ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা কিশোরগঞ্জের লতিফাবাদ ইউনিয়ন থেকে চালু হয়েছে। ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, চলতি অর্থবছরে প্রায় ৪১ লাখ পরিবার এই কার্ডের আওতায় আসবে, যার জন্য সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। তিনি এ ব্যয়ের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে বলেন, দরিদ্র মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছালে তা বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি করবে, পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা ও শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে। আশা প্রকাশ করে বলেন, এই অর্থপ্রবাহ দেশের অর্থনীতিতে বহু গুণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার আওতায় দেশের প্রতিটি পরিবারকে ধীরে ধীরে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। মূল লক্ষ্য হলো দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখা।






