হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল সম্পূর্ণভাবে সচল করতে অতিরিক্ত ৯০২ কোটি টাকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানান, এই অর্থের মাধ্যমে দ্রুত কাজ শেষ করতে, কিছু বকেয়া পরিশোধ করতে এবং অন্যান্য সংস্থার পাওনা পরিশোধে সহায়তা পাওয়া যাবে।
জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে রোববার তিনি এ কথা বলেন, যেখানে নোয়াখালী ৬ আসনের সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ এক সম্পূরক প্রশ্ন তুলেছিলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক টার্মিনালের নির্মাণের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ১৩ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২১,৩০০ কোটি টাকা পৌঁছেছে। মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের দপ্তর তদন্তে প্রায় ৪,৪৬৯ কোটি টাকার অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে, যার জন্য ঠিকাদার থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের সুপারিশ করা হয়েছে।
এ অবস্থায়, কাজের ৯৯.৯১ শতাংশ সম্পন্ন হওয়ার পরও হঠাৎ করে সংযোজিত ৯০২ কোটি টাকা ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে কিছু পর্যবেক্ষক দুর্নীতির সুযোগ হিসেবে দেখছেন। এমতাবস্থায়, এই আর্থিক বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তা সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তা না হলে এই বিশাল প্রকল্পটি অকার্যকর হয়ে পড়ত।
তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে, কাজের গুণগত মান ও অগ্রগতি সম্পন্ন করতে, কিছু বকেয়া পরিশোধ করে অবকাঠামো সচল করতে এই অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন। স্বচ্ছতা ও সততার ভিত্তিতে এই বরাদ্দ অনুমোদন হলে খুব দ্রুতই থার্ড টার্মিনাল চালু করা সম্ভব হবে। এর ফলে, বর্তমানে যা ১.২ মিলিয়ন যাত্রী পরিবহন সক্ষম, তা দ্বিগুণ করে আরও বেশি যাত্রী সেবা দিতে পারবে। এই আয় থেকেও জাইকার ঋণ সহজে পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত এই অতিরিক্ত বরাদ্দের জন্য পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন মন্ত্রী।






