এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা ও ওশেনিয়া—এই চার মহাদেশের কিছু দেশ দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। তবে মহাদেশের মূল ভূখণ্ডে এই খেলার বিস্তার অনেকটাই ধীরে ধীরে হয়েছে। পশ্চিম ইন্ডিজসহ কিছু অঞ্চলে ক্রিকেটের প্রভাব থাকলেও, মহাদেশ হিসেবে দক্ষিণ আমেরিকায় তা এত দিন খুব বেশি প্রসার লাভ করতে পারেনি। এখনও পর্যন্ত বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট এখনো সেখানে আয়োজন হয়নি। কিন্তু এখন এই পরিস্থিতি বদলানোর লক্ষ্যে আইসিসি এক বিশাল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা এবার নিশ্চিত করেছে, দক্ষিণ আমেরিকাতেও ক্রিকেটের প্রসার ঘটানো হবে। এর পাশাপাশি, প্রথমবারের মতো অ্যামেরিকান গেমসের এর অংশ হিসেবে ক্রিকেট যোগ হচ্ছে, যা স্বয়ং মেসি ও নেইমারদের দেশ—আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের প্রভাব বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। আধুনিক পরিকল্পনায় দেখা যায়, ক্রিকেটের বিস্তার অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে। এবছরই এশীয় গেমসে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং আফ্রিকান গেমসেও ২০২৩ সালে যোগ হয়েছে এই খেলা। ১২৮ বছর পর, লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের মাধ্যমে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে ফিরে এসেছে ক্রিকেট। এরপর ২০২৭ সালে লাতিন আমেরিকার প্যান অ্যাম গেমসে প্রথমবারের মতো খেলাটি অংশ নেবে। সবকিছু মিলিয়ে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আইসিসির সাম্প্রতিক সভায়। সভায় আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার মধ্যে রয়েছে মাল্টি স্পোর্টস গ্লোবাল ইভেন্টে ক্রিকেটের অংশগ্রহণ বাড়ানো। ২০২৮ সালে অলিম্পিকে পুরুষ ও নারী বিভাগে ক্রিকেট খেলা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে মোট ২৮টি ম্যাচ হবে। প্রতিটি বিভাগে থাকবে ছয়টি দল—পাঁচটি দল আসবে আফ্রিকা, আমেরিকা, এশিয়া, ইউরোপ ও ওশেনিয়ার শীর্ষস্থানীয় দেশগুলো থেকে, আর স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নেবে। ষষ্ঠ দলটি নির্ধারিত হবে বাছাইপর্বের মাধ্যমে, যার বিস্তারিত এখনও জানানো হয়নি। এই ঐতিহাসিক খেলা শুরু হবে ২০২৮ সালের ১২ জুলাই, লস অ্যাঞ্জেলেসের ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বিশেষ নির্মিত ফেয়ারগ্রাউন্ডস স্টেডিয়ামে। এর পাশাপাশি, ২০২৬ সালে জাপানের নাগোয়ার আইচি গেমসে, ২০২৭ সালে মিসরের কায়রো ও পেরুর লিমায় পান-আম গেমসেও ক্রিকেটের উপস্থিতি থাকবে। ভবিষ্যতে আরও বড় আয়োজনের পরিকল্পনা আছে, যেমন ২০৩২ সালের ব্রিসবেন অলিম্পিক। আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্তা জানিয়েছেন, এই ইভেন্টে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্তির জন্য তারা ব্রিসবেন আয়োজকদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ব্রিসবেন ২০৩২ আসরেই ক্রিকেটের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছি।’ পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি), এলএ-২০২৮ ও ব্রিসবেন ২০৩২ আয়োজকদের সঙ্গে লুজানে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ইভেন্টের ধরন, আয়োজন ও যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়গুলো আলোচিত হয়।






