জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমঝোতা জোটে ভাঙনের শুরুর সুর শোনা যাচ্ছে। নিজেদের জন্য বরাদ্দ আসনে অসন্তুষ্ট হয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বের হওয়ার संकेत দিয়েছে। দলটি এখন স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর পাশাপাশি, এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) ও আরও নতুন কিছু দল জোটে যোগ দেয়ায় আসন বন্টনের জটিলতা আরও বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে জামায়াত বলছে, কোনো দলই জোট থেকে বের হলেও এর বড় প্রভাব পড়বে না।
গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়। প্রত্যেক দলই আলাদাভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। এই প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী ৭টি ইসলামি দল নিয়ে এক ঐক্যজোট গঠন করে, যা ইতিমধ্যে বেশ কিছু জনসভাও করেছে। সম্প্রতি, এই জোটে যোগ দেয় তরুণদের দল এনসিপি।
আসন ভাগাভাগি নিয়ে এই জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। লিয়াজোঁ কমিটি নানা দফায় বৈঠক করলে কিন্তু এখনও কোনও চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। ইসলামী আন্দোলনের নেতারা তাদের বরাদ্দ ৩৫ আসনে সন্তুষ্ট নয়; তারা ইতিমধ্যেই ২৭২টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। যদি সমঝোতা না হয়, তবে দলটি এককভাবে নির্বাচনে নামে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘যদি কোনো সমঝোতা না হয়, তবে আমাদের সামনে আর কোনো পথ থাকবে না। আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচনে লড়ব। তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে যদি সম্মানজনক সমঝোতা হয়, তবে আমরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করব। তবে আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে যেন কেবল ‘ব্যাকডোর’ দিয়ে অন্যকোনো পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে না।’
জামায়াতের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, আলোচনার মাধ্যমে শিগগিরই চূড়ান্ত সমঝোতা হবে। তবে কেউ এককভাবে নির্বাচনে দাঁড়ালে তার প্রভাব জোটের ওপর পড়বে না। দলটির কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, ‘ইনশাল্লাহ, চূড়ান্তভাবে কোনও সমস্যা হবে না। বর্তমানে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলমান, যা শেষ হলে পুরো পরিস্থিতির ধরণ পরিষ্কার হয়ে যাবে। এরপর আলোচনা আরও এগিয়ে যাবে এবং দ্রুতই একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।’
বর্তমানে জামায়াতে ইসলামী জোটে ১১টি দল রয়েছে, যার মধ্যে এনসিপিসহ নতুন দলগুলো আসন বণ্টনে আরও জটিলতা সৃষ্টি করেছে। শরিকদের দাবি, নতুন দলের অন্তর্ভুক্তি আসন বণ্টনের সমীকরণ আরও জটিল করে তুলছে।






