ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বাধা দেওয়া ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য বিভাগীয় প্রধান মো. শরিফুল ইসলাম জুয়েলকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার খবর পেয়ে ক্যাম্পাসে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা, তারা দ্রুত বিক্ষোভ মিছিল করেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে ঝিনাইদহে নিজের বাসভবনের সামনে থেকে মোবাইলে তোলা একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, একটি মোটরসাইকেলে করে যুবক তাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। ফুটেজ বিশ্লেষণে জানা গেছে, নিয়োগের জন্য উপস্থিত হওয়ার মুহূর্তে বিভাগের সভাপতি বাসা থেকে বের হলে তাকে বাইকে তুলে নেয়া হয়। এর পর তার স্মার্টফোনের সাথে যোগাযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, ওই দিন সকাল আটটার দিকে বিভাগের প্রভাষক নিয়োগের বোর্ডের গুরুত্বপুর্ণ সভা হওয়ার কথা ছিল। ওই সময় সদ্য বাসা থেকে বের হওয়া বিভাগের সভাপতিকে দ্রুত এক অচেনা বাইক তাকে তুলে নেয়। দুপুরের পরে আশেপাশের সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার কাজ মোটামুটি শেষ হয়েছে। আজকের মৌখিক পরীক্ষা চলার কথা থাকলেও, শুরু থেকেই অবশিষ্ট কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এখনও পর্যন্ত ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ২১ জন উপস্থিত থাকলেও, অপহৃত এই শিক্ষক সেখানে উপস্থিত হননি। তবে সাহেদ আহম্মেদ দাবি করেছেন, তিনি বলছেন, শিক্ষককে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন। শরিফুল ইসলাম পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, তিনি সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যোগাযোগের জন্য কল পেয়ে আসছিলেন। প্রথমে অসুস্থতার কারণে যেতে পারবেন না বললেও, বারবার ফোন এলে তিনি রেডি হয়ে ক্যাম্পাসে যান। বাসায় নামার সময় তিনি শুনেছেন দেখে মোবাইলের পর মোবাইলের শব্দে এক বসায় মনে হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তাঁদের নেয়ার জন্য গাড়ি পাঠানো হয়েছে। তবে মাঝখানে একটা কল আসে, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গাড়ি চালক হাশমত কল করে তাঁর অবস্থান জানাচ্ছেন। এর কিছুক্ষণ পরে ক্যাম্পাসের একজন গাড়িচালক তাঁকে জানায়, তিনি ওই শিক্ষককে নিতে আসছেন। এদিকে, অভিযুক্ত সাহেদ আহম্মেদ বলেন, ‘প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার অস্ত্রের মুখে তড়িঘড়ি করে নিয়োগ বোর্ড করাচ্ছে। এর আগে তাদের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের হুমকি ও চাপ দেওয়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ডিলিটের চেষ্টা চলছে। আমি জানিয়ে দিচ্ছি, তিনি (শরিফুল ইসলাম) নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, তাই নিরাপত্তার জন্য তাকে আমি সঙ্গে নিয়েছি। পরে তাকে বাড়িতে দিয়ে এসেছি।’ সাহেদ আরও বলেন, এক ফেসবুক পোস্টে, ‘প্রিয় শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক ভাইয়েরা, আমি পরিষ্কার করে জানাতে চাই যে, গতকাল মঙ্গলবার সকালে শরিফুল ইসলাম জুয়েল নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন এবং আমি নিজে গিয়ে তাকে নিয়ে আসি। তিনি আমার দীর্ঘদিনের পরিচিত ছোট ভাই। উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার ব্যক্তিগতভাবে তাকে হুমকি ও ধামকি দিয়েছে, এবং গত সপ্তাহে একদল শিক্ষককে জরুরীভাবে ডেকে এনে মারধর ও হুমকি দিয়ে নিয়োগের পরিকল্পনা চালিয়েছে। এছাড়া, তাদের মাধ্যমে তাঁর নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে যথাযথ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, রেজিস্ট্রার ড. মনজুরুল হক বলেছেন, সকালবেলা তিনি কল দিয়ে জানতে চেয়েছিলেন, শরিফুল ইসলাম অসুস্থ থাকলে কি আসতে পারবেন না। তিনি জানান, অসুস্থ থাকলে আগে জানানো উচিত ছিল—এটাই নিয়ম। উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, তিনি জানিয়ে ছিলেন যে, তিনি অসুস্থ থাকায় আসতে পারবেন না। যদি প্রয়োজন হত, তাহলে আমরা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতাম। এখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেননি, তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে চলছে।”}}]]}]}]}},{






