ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পার তাদের প্রধান কোচ হিসেবে ইগর টিউডরকে নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছে। লিগে শিবিরের খারাপ ফল এবং অবনমন এলাকায় ঢুকতে বসা পরিস্থিতির ফলে ৪৭ বছর বয়সী ক্রোয়াট কোচকে টমাস ফ্র্যাঙ্কের স্থলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ক্লাব তাকে চলতি মৌসুম শেষ হওয়ার পর্যন্ত ডাগআউটের কমান্ড করার জন্য চুক্তিবদ্ধ করেছে। টমাস ফ্র্যাঙ্ক মাত্র আট মাসের মাথাতেই বরখাস্ত হওয়ায় টিউডরের ওপর এখন কঠিন একটি মিশন পড়ে গেছে।
টটেনহ্যামের বর্তমান অবস্থান বেশ চিন্তার বিষয়—১৭ ম্যাচে মাত্র দুবার জয় তোলে তারা, যার কারণে পয়েন্ট তালিকায় দলটি অবনমন অঞ্চল থেকে মাত্র পাঁচ পয়েন্ট উপরে আছে। এই অনিশ্চিত অবস্থা বদলে লিগে নিরাপদ স্থানে ওঠানোই টিউডরের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য বলা হচ্ছে।
দলের নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর টিউডরকে প্রথম পরীক্ষায় নেমে পড়তে হবে খুব ব্যস্ত সূচিতে। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি টটেনহ্যাম হটস্পার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে নর্থ লন্ডন ডার্বি, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ লিগসিরিয়ালে শীর্ষস্থানে থাকা আর্সেনাল। এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটিই হবে টিউডরের কৌশল, মানসিকতা ও নেতৃত্বের প্রথম বড় মাপকাঠি।
নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে টিউডর বলেছেন, এমন এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে টটেনহ্যাম মতো ক্লাবে যোগ দিতে পারা তাঁর জন্য গর্বের। তাঁর বক্তব্য—দলের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা আনা, হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা এবং প্রতিটি ম্যাচে জয়ের মানসিকতা গড়ে তোলা হবে তাঁর অগ্রাধিকার। টিউডর মনে করেন, বর্তমান স্কোয়াডে গুণগত খেলোয়াড় আছে এবং সঠিক ব্যবস্থাপনায় দ্রুত ফল দেখতে পাওয়া সম্ভব।
ক্লাবের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ইয়োহান ল্যাঙ্গও টিউডরের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, টিউডরের অভিজ্ঞতা ও সংকট মোকাবেলার দক্ষতা টটেনহ্যামের এই সময়ের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।
টিউডর সম্পর্কে জানা যায়, তিনি ফুটবল বিশ্বে অভিজ্ঞ কোচ হিসেবে সম্ভাষিত—আগে লাজিও, মার্সেই, গ্যালাতাসারায় ও জুভেন্টাসের মতো ক্লাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবু এক বিচিত্র পরিসংখ্যান রয়েছে—তিনি এখনও কোনো ক্লাবে দু বছরের বেশি স্থায়ী হননি। এই অস্থিরতা থাকলেও টটেনহ্যাম তাঁর আক্রমণাত্মক ও কঠোর শৃঙ্খলার ফুটবল দর্শন ক্ষমতাকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—নর্থ লন্ডন ডার্বির মতো বড় মঞ্চে টিউডর টটেনহ্যামের ভাগ্য ঘুরিয়ে দিতে পারবেন কি না এবং দলকে প্রিমিয়ার লিগের টিমবিহীন অঞ্চলের তলানি থেকে উপরে টেনে আনতে পারবেন কি না। সমর্থকরা নতুন কোচের অধীনে দলের নতুন যাত্রাকে আশাব্যঞ্জক চোখে দেখছেন, তবে ফল-প্রতাফলই সবকিছু নির্ধারণ করবে।






