বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা স্পিনার এবং আফগানিস্তানের নেতৃত্বে থাকা তারকা ক্রিকেটার রশিদ খান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন এক বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। তিনি প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এই সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে ৭০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে শীর্ষে অবস্থান তৈরি করলেন। এটি তিনি করেন চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে, দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে ম্যাচে। এই ঐতিহাসিক সফলতা অর্জনের আগে, ২০০৩ সালে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে তিনি এই নম্বরের কাছে পৌঁছানোর জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন। গত ২৩ বছরে, এই ফরম্যাটে কোনোই অন্য বোলার এত বড় সাফল্য অর্জন করতে পারেননি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে রশিদের ঝুলিতে ছিল ৬৯৯ উইকেট। প্রথম স্পেলে তিনি উইকেট না পেলেও, ইনিংসের ১৬তম ওভারে তিনি কাঙ্ক্ষিত সেই বিশেষ উইকেটটি পান। ওভারের দ্বিতীয় বলেই তিনি আরব আমিরাতের ব্যাটার মোহাম্মদ おরফানকে আউট করে টু-হান্ড্রেড পার করলেন। সেই মুহূর্তে, তিনি ট crédit্র ইতিহাসের প্রথম বোলার হিসেবে ৭০০ উইকেটের মালিক হন। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, তিনি ৬৯৮ এবং ৬৯৯ নম্বর উইকেট শিকার করেছিলেন। এই অসাধারণ সাফল্যটি ইতিহাসে তাঁর আধিপত্যের প্রমাণ রাখে।
আন্তর্জাতিক এবং ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকের তালিকায় দীর্ঘদিন ধরেই রশিদ শীর্ষে রয়েছেন। অবসর নেওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ডোয়াইন ব্রাভো ৬৩১ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও, সক্রিয় ক্রিকেটারদের মধ্যে সুনীল নারিন ৬১৩ উইকেট সংগ্রহ করে তাঁর পেছনে রয়েছেন। তবে, ৭০০ উইকেটের এই বিশাল স্পর্ধা থেকে তিনি এখনও অনেক দূরে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে, তিনি ১৯১ উইকেট নিয়ে শীর্ষে থাকলেও, নিউজিল্যান্ডের টিম সাউদি ও ভারতের ইশ সোধি যথাক্রমে ১৬৪ ও ১৬২ উইকেট সংগ্রহ করেছেন।
নিজের এই বিশাল সফলতা সম্পর্কে রশিদ খান জানিয়েছেন, তিনি কখনোই নির্দিষ্ট সংখ্যার জন্য অভিনিবেশ করেন না। তাঁর মূল লক্ষ্য হলো, যখন মাঠে নামেন, তখন নিজের সেরাটা দেওয়া এবং দলের জন্য সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করা। এই রেকর্ডের জন্য তিনি অত্যন্ত গর্ববোধ করলেও, ভবিষ্যতে এই অর্জন আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ক্রিকেটবিশ্লেষকরাও মনে করেন, ২৯ বছর বয়সী এই লেগ স্পিনার যদি এভাবে ফর্ম বজায় রাখতে থাকেন, তবে হয়তো তার এই রেকর্ড ভাঙা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। রশিদের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি শুধুমাত্র আফগান ক্রিকেটের জন্য নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে এক স্বর্ণাক্ষরিত অধ্যায় হয়ে থাকবে।






