দেশে হামের ভয়াবহ সংক্রমণের পরিস্থিতি এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো দাঁড়িয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, এই পরিস্থিতির পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে। বুধবার সকালে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন, যেখানে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পোলিও টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে এবং সরকারি তথ্য অনুযায়ী আক্রান্তের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে। এক সময় এই রোগটিকে প্রায় নির্মূলের পথে দেখা হলেও, হঠাৎ অতিরিক্ত সংক্রমণ ও অবহেলার কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “হাম সংক্রমণ পরিস্থিতি খুবই জটিল হলেও সরকার নিবিড়ভাবে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। পরিস্থিতি সচেতনভাবে মোকাবেলা করে এর বেশির ভাগ জেলাতেই টিকাদান সম্পন্ন হয়েছে। বাকি শিশুদেরও দ্রুত টিকা দেয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আগামী জুনের মধ্যে দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।
বিশেষ করে, এই মহামারির মূল কারণ হিসেবে সময়মতো টিকা দেওয়ার অভাব ও চিকিৎসা সম্প্রসারণের ঘাটতি উল্লেখ করছেন চিকিৎসকরা। যদিও ৯৮ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়ে যাচ্ছে। দুর্ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে দুর্যোগের প্রকৃত কারণ ও অবহেলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এদিকে, সরকারকে আরও শক্তিশালী করতে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন ৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন উপহার দিয়েছে। এর ফলে ইপিআই কার্যক্রমকে আরও ত্বরান্বিত করা হবে বলে আশা করছে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়। চিকিৎসকদের মুখে, সময়মতো টিকা না দিলে এই মহামারির বিস্তার রুখতে সমস্যা তৈরি হয়। যদিও বলা হচ্ছে, বর্তমানে প্রায় ৯৮ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে সরকার, তারপরও পরিস্থিতির প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া নিতে আরও মনোযোগী হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।






