জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া ক্রিকেটে সম্প্রতি এমন এক অনন্য ব্যাটিং মহোৎসব ধরা পড়েছে যে তা ক্রিকেটই নতুন করে ভাবায়। লিস্ট ‘এ’ বা আন্তর্জাতিক মর্যাদা না থাকা এই ৫০ ওভার ম্যাচে স্করপিয়ন্স ক্রিকেট ক্লাব এক অভূতপূর্ব সংগ্রহ করে — ৪ উইকেটে ৮২২ রান। একই ম্যাচে প্রতিপক্ষ মিথেন লায়ন্স ফিরে যায় মাত্র ২৮ রানে, ফলে স্করপিয়ন্স ৭৯৪ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায়। ৫০ ওভারের ফরম্যাটে এমন পরিসংখ্যান যুগান্তকারী বলেই বলা চলে। এর আগে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড হিসেবে স্মরণ আছে ভারতের বিজয় হাজারে ট্রফিতে অরুণাচলের বিপক্ষে বিহারের বিরুদ্ধে ৫৭৪ রান — তবে এই ম্যাচটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃত নয় বলে রেকর্ডের ধারা আলাদা।
স্করপিয়ন্সের রানের অভূতপূর্ব সাফল্যের পেছনে ছিলেন দুই ওপেনার — তাকুন্ডা মাদেম্বো ও উইনফেড মাতেন্ডে। ইনিংসের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে মাদেম্বো ১৪৩ বল খেলে ৩০২ রানের প্রাসাদ গড়েন; তার ইনিংসে ছিল ৫০টি চারের সঙ্গে ৭টি ছক্কা। ওয়ানডে ফরম্যাটের কোনো ম্যাচে ব্যক্তিগত ট্রিপল সেঞ্চুরির এই ঘটনা নজিরবিহীন। অপর ওপেনার মাতেন্ডে অপরাজিত মেজাজে মাত্র ৭৫ বল কেটে ২০৩ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন; তার কৃতিত্বের মধ্যে ছিল ২৩টি চার ও ১৩টি সুদৃশ্য ছক্কা।
ওপেনারদের পরে মধ্যম পংক্তির ব্যাটাররাও দম রাখতে দেননি। তিন নম্বরে নামা ভিনসেন্টে মোয়ো ৩৯ বলে ৭৮ রানের ঝটিকা ইনিংস খেলেন এবং ইনিংসের শেষ ভাগে গ্যাব্রিয়েল জায়া মাত্র ৪৯ বল খেলে ১১০ রানে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে স্করপিয়ন্সের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৮২২ রান — এমন রানের পাহাড় দেখে মনে হচ্ছিল উইকেট পুরোপুরি ব্যাটিং-বান্ধব ছিল।
তবে ম্যাচের মোড় দ্বিতীয় ইনিংসে নাটকীয়ভাবে পাল্টে যায়। দিনের শুরুতে ব্যাটসম্যানদের জন্য স্বর্গীয় মনে হওয়া পিচই হঠাৎ বিকালবেলায় বল করতে শুরু করে, আর মিথেন লায়ন্সের ব্যাটাররা সেখানে স্থির থাকতে পারেনি। একের পর এক উইকেট হারিয়ে তারা মাত্র ২৮ রানে অলআউট হয় — যেকোনো স্তরের প্রতিযোগিতায় বিরল ধরনের ব্যর্থতা। স্করপিয়ন্সের বোলিং অংশীদারিরা সুযোগ কাজে লাগিয়ে তৎপরতা দেখান এবং কোনো ব্যাটারই টিকে থাকা সম্ভব হয়নি।
শেষ ফলাফল: স্করপিয়ন্স ক্রিকেট ক্লাব ৭৯৪ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়ী। যদিও ম্যাচটি আন্তর্জাতিক বা লিস্ট ‘এ’ স্বীকৃত নয়, তবু একই সেশনেই個 ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি, ডাবল সেঞ্চুরি, ট্রিপল সেঞ্চুরি এবং দলীয় ৮২২ রানের আলোকিত পরিসংখ্যান দেখে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে এটি দীর্ঘদিনের আলোচ্য বিষয় হয়ে থাকবে। এই ম্যাচটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে ক্রিকেটে, বিশেষ করে স্থানীয় বা ঘরোয়া পর্যায়ে, কোনো দিনই রেকর্ড ভাঙা বা অবিশ্বাস্য ফলের জন্ম হওয়া অপ্রত্যাশিত নয়।






