বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রদর্শিত পথই দেশের উন্নয়ন, সার্বভৌমত্ব ও বহুদলীয় গণতন্ত্র রক্ষা করেছে। শনিবার (২৯ মে) ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি দলীয় বিবৃতিতে এই শ্রদ্ধা জানান।
গভীর সম্মান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘শহীদ জিয়ার দর্শন, কর্মসূচি ও নেতৃত্ব স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুসংহত করেছে। স্বাধীনতার লক্ষ্যে তিনি যে সাহস ও উৎসাহ দেখিয়েছেন, তা জাতিকে এক অদম্য قوت দিয়েছে।” তিনি জিয়ার চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর কম্যান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে তার অবদানের কথাও স্মরণ করেন এবং বলেন, ‘‘ইতিহাসে তিনি এক বীরনায়কের স্থান অর্জন করেছেন।’’
বক্তব্যে মির্জা ফখরুল আরও মনে করান যে, মুক্তিযুদ্ধের পর অনাকাঙ্ক্ষিত শাসনব্যবস্থা ও একদলীয়তাবাদ দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সংবিধানিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছিল। তিনি বলেন, ‘‘সংবাদপত্র ও বাকস্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, নাগরিক অধিকার হরণ করা হয় এবং দেশ অরাজকতার গহ্বরের দিকে ধাবিত হয়।’’
তৎকালীন অস্থিতিকালীন সময়ে জনতার ও সিপাহিদের প্রতিরোধের ফলে জিয়াকে বন্দিদশা থেকে মুক্তি দেওয়া হয় — মির্জা ফখরুলের কথায়, এ ঘটনার মাধ্যমে জিয়া জাতীয় রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হন। রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন এবং অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘তার শাসনামলে দেশ ক্ষণের জন্যই হাঙ্গরালো-অপবাদী অবস্থাকে ছাঁটিয়ে খাদ্য রপ্তানীকারী দেশে রূপ নেয়। তিনি দুর্নীতির প্রতি অনীহা ও স্বচ্ছ জীবনাচরণে বিশ্বাসী ছিলেন।’’
শহীদ জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড ও এর পটভূমি প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘‘১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে নিন্দনীয়ভাবে তাঁর হত্যা ঘটে। দেশ একটি মহান দেশপ্রেমিককে হারায়।” তিনি দাবি করেন যে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা দেশবিরোধী চক্রের অংশ ছিল। মির্জা ফখরুল শহীদ নেতার লেখচিত্র ও আদর্শের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘‘চেষ্টা করলেই যে কেউ তাকে মুছে ফেলতে পারবে না; তিনি জনগণের হৃদয়ে চিরজাগ্রত থাকবেন।’’ এছাড়া তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শহীদ জিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথে কাজ করেছেন।
গত শাসনামলের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকে জনমানসে আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টি করেছে বলে জনগণের অভিযোগ রয়েছে। অনিয়ম, গুম-খুন ও ত্রাসের ঘটনায় মানুষ দীর্ঘদিন ভুগেছে’’ — এসব বক্তব্য তিনি নিজের ভাষ্যে উত্থাপন করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিজ্ঞ ছাত্র, শ্রমিক ও জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনকে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ঐ আন্দোলনের সাফল্যকে যারা অর্জিত বলেছেন, তাদের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। (বক্তৃতাগুলো মির্জা ফখরুলের ব্যক্তিগত বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপিত)
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রত্যয় সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘বিএনপি জোট সরকার জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও মতভেদের সহনশীলতা নিশ্চিত করে নাগরিক অধিকার রক্ষা করবে।’’ তিনি বলেন, ‘‘গণতন্ত্রকে স্থিতিশীল ও স্থায়ী করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা জরুরি।’’ বঙ্গভূমির উন্নয়ন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও বহুমাত্রিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সংগঠিত গণঐক্য গঠনেরও আহ্বান জানান তিনি।
বিবৃতির শেষে মির্জা ফখরুল দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনগণকে শহীদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান এবং দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক আদর্শের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।






