২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে জিনেদিন জিদানের সেই হেডবাট আর লাল কার্ডের দৃশ্য ফুটবলপ্রেমীদের মনে আজও কষ্টের একটি স্মৃতি। ২০ বছর পর ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালেও একই তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হলো আর্জেন্টিনাকে। মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড যেন সেই শিরোপা স্বপ্নকে ছিন্নভিন্ন করে দিল এবং দলের জন্য এক লজ্জাজনক পরিণতি ডেকে এনেছে।
ম্যাচ যখন তীব্র উত্তেজনায় এবং ফলাফলের ওপর প্রতিটি সিদ্ধান্তের ওজন বাড়ছিল, তখনই ৯৩ মিনিটে এনজো পাউ কুবারসিকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পান। এর আগে ৮২ মিনিটে তিনি প্রথম হলুদ দেখেছিলেন। এনজোর এই অবিবেচনাপ্রসূত ফাউলের ফলে আর্জেন্টিনা এক সময় ১১ থেকে নেমে আসে ১০ খেলোয়াড়ে, আর সেই সুযোগ স্পেন সুচারুভাবে কাজে লাগায়। অতিরিক্ত সময়ে আলবিসেলেস্তেরা আক্রমণের ধাক্কা সামলাতে গিয়ে হিমশিম খায় এবং ১০৬ মিনিটে গোল হজম করে শেষপর্যন্ত রানার্স-আপ হিসেবে সন্তুষ্ট থাকতে হয় মেসি বাহিনীকে।
ফাইনালে লাল কার্ডের কালো ইতিহাসে আর্জেন্টিনা যে আধিপত্য গড়েছে, তাতে বিস্ময় কম নয়। বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে এখন পর্যন্ত মোট ছয়জন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেছেন — এবং তাদের মধ্যে তিনজনই আর্জেন্টিনার। এই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড দলের গৌরবে কালো ছাপ ফেলে দিয়েছে।
ফাইনালে লাল কার্ড দেখানো খেলোয়াড়দের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিস্থিতিগুলো ছিল:
পেদ্রো মোনজোন (১৯৯০): জার্মানির বিপক্ষে ফাইনালে সরাসরি লাল কার্ড পান এবং ইতিহাসে নাম লেখান।
গুস্তাভো দেজোত্তি (১৯৯০): একই ম্যাচে মোনজোনের ২২ মিনিট পর লাল কার্ড পান; সেই বারের আর্জেন্টিনা খুব কম খেলোয়াড় নিয়ে ১-০ হারে হারেছে।
এনজো ফার্নান্দেজ (২০২৬): ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ডের লজ্জায় নাম লেখালেন তিনি।
অন্যান্য যারা ফাইনালে লাল কার্ড পেয়েছেন:
মার্সেল দেশাইলি (ফ্রান্স, ১৯৯৮), জিনেদিন জিদান (ফ্রান্স, ২০০৬), জন হেইতিঙ্গা (নেদারল্যান্ডস, ২০১০)।
এরপর কিছু সময় ফাইনালগুলো তুলনায় শান্ত ছিল — টানা তিনটি ফাইনাল লাল কার্ডহীন ছিল — কিন্তু এনজো ফার্নান্দেজের কারণে ২০২৬ সালে আবার সেই পুরনো অনভিপ্রেত প্রথা ফিরে এল। ফুটবল ইতিহাসে এই রেকর্ডগুলো দলের উপর স্থায়ী ছাপ ফেলে; বিশেষ করে এমন মুহূর্তগুলো যখন একটি কার্ড পুরো শিরোপার স্বপ্নেই প্রভাব ফেলে।
একনজরে বিশ্বকাপ ফাইনালে লাল কার্ড পাওয়া খেলোয়াড়রা:
– পেদ্রো মোনজোন (আর্জেন্টিনা, ১৯৯০)
– গুস্তাভো দেজোত্তি (আর্জেন্টিনা, ১৯৯০)
– মার্সেল দেশাইলি (ফ্রান্স, ১৯৯৮)
– জিনেদিন জিদান (ফ্রান্স, ২০০৬)
– জন হেইতিঙ্গা (নেদারল্যান্ডস, ২০১০)
– এনজো ফার্নান্দেজ (আর্জেন্টিনা, ২০২৬)






