আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস ১ মে উপলক্ষে রাজধানীর মহিলা সমিতি মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হবে আলোচিত নাটক ‘বন্যথেরিয়াম’। দীর্ঘ বিরতির পর নাট্যদল বটতলা তাদের এই জনপ্রিয় প্রযোজনা আবারও দর্শকদের সামনে তুলে ধরছে। এদিন বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট এবং সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট—দুইটি বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। বহু প্রতীক্ষিত এই মঞ্চায়নকে ঘিরে থিয়েটারপাড়ায় ইতিমধ্যেই নাড়েচাড়া শুরু হয়েছে।
নাটকটি সুকুমার রায়ের কালজয়ী কল্পকাহিনীভিত্তিক ‘হেঁসোরাম হুঁশিয়ারের ডায়েরি’ থেকে সংগৃহীত উপাদানে নির্মিত। নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন ইভান রিয়াজ। পরিবেশ রক্ষা ও মানুষের অতিমুনাফালোভী মনকে লক্ষ্য করে এই মঞ্চকর্মটি একটি শিল্পীভিত্তিক প্রতিবাদ—প্রকৃতির বিরুদ্ধে লিপ্ত ক্ষতিকর কর্মকান্ডকে রূপক চরিত্র ও বিন্যাসের মাধ্যমে শক্তভাবে উপস্থাপন করতে চাইছে নির্মাতারা। নির্দেশক ২০১৬ সালে সুন্দরবন রক্ষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে নাটকের পাণ্ডুলিপিটি প্রস্তুত করেন; সেখানে সুকুমার রায়ের ছড়া ও গল্পের নানা উপাদান সৃষ্টিশীলভাবে মিশেছে।
নাটকের কাহিনী ঘোরে ‘ওয়াইল্ড ভিশন’ নামক একটি প্রাণিবিজ্ঞান সংস্থাকে কেন্দ্র করে। সংস্থা একটি অদ্ভুত প্রজাতির ‘ট্যাঁশ গরু’ সন্ধান করে। প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট হারু প্রাণীটিকে বন্দি করে আনার নির্দেশ দিলে বন্যপ্রাণী ব্যবসায়ী মিস হুক্কি মুনাফার স্বপ্ন দেখেন। তার সঙ্গে মিশে হারুও ব্যবসায়িক লাভে অন্ধ হয়ে যায়। প্রফেসর হেঁসোরাম হুঁশিয়ারের ভাগনে চন্দ্রখাই তাদের কাছে প্রফেসরের রোমাঞ্চকর অভিযানের কাহিনী শোনায়—যার প্রভাব পড়ে হারু ও মিস হুক্কির সিদ্ধান্তে। মুনাফার লোভে প্রকৃতির ভারসাম্যকে ভুলে যাওয়া, করপোরেট লালসার বাস্তব চিত্র এবং তার পরিণতি—সবকিছুই নাটকে রূপকাভাবে ফুটে উঠেছে।
নাটকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাহবুব মাসুম, মোহাম্মদ আলী হায়দার, সুমিত তেওয়ারি রানা, আশরাফুল ইসলাম অশ্রু, লায়কা বশীর, তৌফিক হাসান ভূঁইয়া এবং হাফিজা আক্তার জুমা। এছাড়া জেঈরান জুহী, লোচন পলাশ, সবুজ সরকার ও কাজী রোকসানা রুমার মতো শিল্পীরাও দৃশ্যসম্ভারে প্রাণ ঢেলে দিয়েছেন। মঞ্চ-আলোক, সঙ্গীত ও চিত্রনাট্য সবমিলিয়ে নাটকটি পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আবেগঘন ও জোরালো বার্তা দেয়।
২০০৮ সালে যাত্রা শুরু করা বটতলা নাট্যদল গত দেড় দশকে ‘ক্রাচের কর্নেল’, ‘সখী রঙ্গমালা’ ও ‘খনা’সহ বহু দর্শকপ্রিয় প্রদর্শনী উপহার দিয়েছে। ‘বন্যথেরিয়াম’ তাদের অন্যতম আলোচিত প্রযোজনা; এর সর্বশেষ মঞ্চায়ন হয়েছিল গত অগাস্টে। আয়োজকরা আশা করছেন মে দিবসের ছুটিতে পরিবার-শিশুরা মিলে এই কল্পনাপ্রসূত ও রোমাঞ্চকর মঞ্চায়ন উপভোগ করবেন। একই সঙ্গে প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা—প্রতিটি দর্শকের মনে সেই বার্তা পৌঁছে দেওয়া।






