বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাবেক জাতীয় অধিনায়ক তামিম ইকবাল আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবি সভাপতি পদে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সম্প্রতি ক্রিকেটভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছেন এবং নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার গুরুত্ব পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন যে দেশের ক্রিকেটে ঠিকঠাক প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার অধিকার সবারই রয়েছে।
তামিম বর্তমান বোর্ড প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ক্রিকেট এক ধরনের স্থবিরতায় পড়ে গিয়েছে এবং সেই পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়রা নিরাশ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি ভবিষ্যতে এমন অবস্থা আর দেখতে চান না। যদি নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি পূর্ণ মেয়াদ পান, তবে দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে ক্রিকেটের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চান—এটাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে মাঠে ভালো ফলাফল পেতে প্রশাসনিক সংস্কার অপরিহার্য।
একই সঙ্গে তামিম দেশের অধিনায়ক ও বোর্ড সভাপতির দায়িত্বের মৌলিক পার্থক্য তুলে ধরেন। অধিনায়ক হিসেবে তার ভাবনা সাধারণত খেলোয়াড় ও কৌশলকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ থাকে, অথচ বোর্ড সভাপতির ভূমিকায় চাকরি বেশি বিস্তৃত ও জটিল—কোচিং স্টাফ, বোর্ড কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, অবকাঠামোগত বিনিয়োগসহ বহুমুখী সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ব্যক্তিগত আবেগের চেয়ে দেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বিচক্ষণ পরিকল্পনা নেওয়া উচিত—এমনটাই তার দৃষ্টিভঙ্গি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) তামিমকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করে। ওই কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন করার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। তামিম জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য তারা দ্রুত কাজ করে যাচ্ছেন। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের ক্রিকেটে গতিশীলতা ফেরানোই তার নির্বাচনি প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য হবে।






