তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন শুক্রবার (৮ মে) বলেছেন, বিএনপিই প্রথম শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তিনি এই মন্তব্য করেন জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে শাপলা চত্বর শহীদদের স্মরণে আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে।
স্বপন বলেন, বিএনপি কখনও ইসলাম অবমাননাকারীদের প্রশ্রয় দেয়নি; বরং শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি এবং শহীদদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ছিল স্পষ্ট। তিনি উল্লেখ করেন, ওই ঘটনার পর বিএনপি দুই দিন হরতালের ডাক দিয়েছিল।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সংসদে শাপলা চত্বরের শহীদদের সম্মান জানিয়েছে বিএনপি এবং পরবর্তীতে তাদের দায়বদ্ধতাও পালন করবে। তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক দল তখনই সত্যিকারের সফল হয় যখন তা শুধু নিজ দলের মধ্যেই নয়, সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে।
স্বপন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান যে তারা তাদের সীমাবদ্ধ গণ্ডির বাইরে গিয়ে বৃহত্তর সমাজের শক্তি ও মানুষের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিক। দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও চিরন্তন বিষয়গুলোতে—যেমন বঙ্গবন্ধু-জন্মভূমি, ধর্মীয় মূল্যবোধ বা সার্বভৌমত্ব—মানুষ দল-মত ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওঠে এবং সেটিই জাতির বড় শক্তি বলে তিনি অভিহিত করেন।
শাপলা চত্বরের শহীদদের কথা স্মরণ করে তথ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, দেশের জন্য যারা জীবন দিয়েছেন তাদের প্রতি সঠিক সম্মান প্রদর্শনের উপায় হলো দেশকে স্বাধীন, সার্বভৌৱণ, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও উন্নয়নের লক্ষ্যের প্রতি অটল রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে নেওয়া।
স্বপন আরও বলেন, ১৯৫২, ১৯৬৯ ও বিভিন্ন সময়ের সংগ্রাম মিলেই আজকের বাংলাদেশ। এসব আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা; তাই ক্ষমতায় কে আছে তা বড় নয়, দেশের স্বার্থে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা অধিকতর জরুরি।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, শাপলা চত্বরের শহীদদের প্রতি জাতীয় দায়িত্ব এখনও শেষ হয়নি এবং ভবিষ্যতেও তা পালন করা হবে। একই সভায় মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন যে বর্তমান সরকার বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে বিচারব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে এবং তিনি শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান।






